চবিতে একের পর এক ছাত্রলীগকর্মী আটক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

প্রকাশ: ১৯:২৫, ১ অক্টোবর ২০২৬

চবিতে একের পর এক ছাত্রলীগকর্মী আটক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে একের পর এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে অবস্থান, যোগাযোগ ও তৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থীর পর শাহজালাল হলের সামনে থেকে ক্যাম্পাসে ব্যবসা পরিচালনাকারী এক স্থানীয় ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহজালাল হলের সামনে থেকে মো. আরমান হোসেনকে আটক করা হয়। ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে নেওয়া হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আরমান হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তিনি শাহজালাল হলের সামনে ‘Hunger Break’ নামে একটি খাবারের দোকান পরিচালনা করেন। ফলে শিক্ষার্থী না হয়েও নিয়মিত ক্যাম্পাস এলাকায় তার অবস্থান ও চলাচলের সুযোগ ছিল।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর চবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে একই দিনে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

প্রথমে এ এফ রহমান হল থেকে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুনতাছির মারজুকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিম। পরে তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মুনতাছির মারজুর ফোনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের চবি শাখার সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন পাওয়া যায়। তবে মুনতাছির মারজু নিজে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

একই রাতে বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জের সামনে থেকে রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম অপুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন চাকসুর কয়েকজন নেতাকর্মী। তার মুঠোফোনে ছাত্রলীগের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকেও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনটি ঘটনাকে পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের পরিচয় এক নয়। কেউ আবাসিক শিক্ষার্থী, কেউ সাধারণ শিক্ষার্থী, আবার কেউ ক্যাম্পাসে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পরিচয় ও অবস্থান আলাদা হলেও অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু একই যে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ বা সম্পৃক্ত ছিলেন।

পরপর এসব আটকের ঘটনায় শুধু আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নয়, ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের পরিধিও সামনে এসেছে। আটক ব্যক্তিদের মুঠোফোনে পাওয়া হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন, গ্রুপের তথ্য এবং সাবেক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য থেকে তাদের পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

এদিকে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মসূচিকে ঘিরে পোস্টার, প্রচারসামগ্রী ও অন্যান্য তৎপরতার তথ্যও সামনে এসেছে। এর আগে শাটলে মিছিল ও পোস্টার সাঁটানোর ঘটনা দেখা গেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আলাওল হলের গেটেও ব্যানার টাঙানো হয়েছিল।

পরপর এসব আটকের ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ ও বিস্তৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের সঙ্গে আরও কত শিক্ষার্থী ও ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত এবং সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্তরা এখনো কতটা সক্রিয়, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। একের পর এক আটকের ঘটনায় ক্যাম্পাসে সংগঠনটির বিস্তৃতি আগের ধারণার চেয়েও বড় কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন