নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১:৩৩, ১ অক্টোবর ২০২৬
আজ বুধবার দুপুরে শেখ মুজিবুর রহমান হলের মূল ফটকে থাকা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান।
মো. মুসলিমুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নাম পরিবর্তনের দাবি জানাই। তখন প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে হাদি ভাইয়ের হত্যার পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর নাম লেখার দাবি আসে।’
মুসলিমুর বলেন, ‘আজ নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখতে পাই। পরে হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, এই হলের অফিশিয়াল নাম এখনো আগের নামেই আছে। সিন্ডিকেট থেকে আবার পরিবর্তন করা হলে সে অনুযায়ী নামকরণ করা হবে।’
হলের নামকরণ নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে মুসলিমুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের নামে হলের নামকরণের পক্ষে নই। এ বিষয়ে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলব এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলাম। এ কারণে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবগত নই। তবে বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সেখানে (হল গেটে) এখনো নতুন কোনো নাম লেখা হয়নি। বর্তমানে হলে পরিচ্ছন্নতার কাজ, দোকানের সামনের ঢালাই ও অন্যান্য সংস্কারকাজ চলছে। এসব কাজের অংশ হিসেবেই সেখানে কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, সেটিও আমি বিস্তারিতভাবে জেনে দেখছি।’
নামফলক থেকে নাম মোছার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হল নামটি শিক্ষার্থীরা লিখেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নামের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাই হল প্রশাসন আগের নামটিই প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।