মোঃ আবিদ সরকার, জামালপুর
প্রকাশ: ১৬:৪৩, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। অনশনকারীদের দাবি, একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জামালপুর জেলায় মোট ১৩৬ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আরও একজন প্রার্থী নিয়োগপত্র পান। ফলে এখনো ৫১ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেশের অন্যান্য জেলার সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও জামালপুরের ৫১ জনের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে চাকরিতে যোগদানের অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মীর আফিফা সুলতানা বলেন, আমরা ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। এর মধ্যে ৮৪ জনকে প্রথম ধাপে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে আরও একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা ৫১ জন এখনো বাদ আছি। কেন আমাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, সেটি স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করব না। প্রয়োজনে এখানেই অবস্থান ও অনশন চালিয়ে যাব।
আরেক আন্দোলনকারী তানভীর রহমান বলেন, সকাল থেকে আমরা কেউ খাবার খাইনি। এর আগে কয়েক দিন ধরে ঢাকায় আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারপরও নিয়োগপত্রের দাবিতে আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজন হলে রাতেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান করব।
আন্দোলনকারীরা জানান, নিয়োগপত্র পাওয়ার বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন অপেক্ষায় রাখার পরিবর্তে চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হোক।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী এহসান বলেন, ৫১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নথিপত্র নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কাজ চলছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।