এম সনজু আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: ১৭:০৩, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনটি জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৮৫৯ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর সময়ই এ স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘ ১৬৬ বছর ধরে ব্যবহৃত পুরোনো স্টেশন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন আধুনিক স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরটিসি-এসএইচজে জয়েন্ট ভেঞ্চারের চুক্তি হয়। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৬৯০ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ৫৪০ দিন। সে হিসাবে ২০২৫ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও পুরো কাজ শেষ হয়নি।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২ হাজার ৪৭০ বর্গফুট আয়তনের দ্বিতল স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচলের জন্য প্ল্যাটফর্মের প্রস্থ ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ২৫ ফুট করার কাজ, স্টেশন ভবনসংলগ্ন প্ল্যাটফর্মের শেড আধুনিকায়ন এবং স্টেশন ভবনের সামনের অংশের ছাদে জনসাধারণের জন্য পার্কিং সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। পুরোনো প্ল্যাটফর্ম ও ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলার কারণে পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই। যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার ও শৌচাগারের সুবিধাও সীমিত। মূল স্টেশন ভবনের বাইরে অস্থায়ীভাবে টিকিট কাউন্টার পরিচালনা করায় বিশেষ করে নতুন ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও নানা সংকট তৈরি হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনটি অনেক পুরোনো। পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সরকার নতুন স্টেশন নির্মাণ করছে—এতে তারা খুশি। তবে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলায় যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে।
তিনি বলেন,ট্রেনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করে যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা চালু করা দরকার। স্থানীয়রা বলছেন, নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ শেষ হলে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনের চেহারা বদলে যাবে এবং যাত্রীসেবার মানও বাড়বে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা স্টেশন দিয়ে আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন চলাচল করায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এ স্টেশন ব্যবহার করেন। ফলে নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা চালুর দাবি তাদের।
এর আগে ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলা এবং কয়েক দফা কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টিও উঠে আসে। সে সময় পুনরায় কাজ শুরু হলেও গতি নিয়ে প্রশ্ন ছিল।
এদিকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা স্টেশনেও চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর বিষয়টি এখন স্থানীয়দের অন্যতম প্রত্যাশা।
দীর্ঘদিনের নির্মাণকাজ আর কতদিন চলবে—এ প্রশ্ন এখন চুয়াডাঙ্গার রেলযাত্রী ও স্থানীয়দের। তাদের প্রত্যাশা, বাড়তি সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত আধুনিক স্টেশন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা হবে।