নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন হাইকোর্ট দুই বিচারপতি

আব্দুল্লাহ আল মামুন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশ: ১৫:৪২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন হাইকোর্ট দুই বিচারপতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এক বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মো. জাবিদ হোসেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাঁরা নবীনগর আদালত প্রাঙ্গণে এসে আদালতের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

বিচারপতিদ্বয়ের গাড়িবহর নবীনগর আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, সার্কেল এসপি পিয়াস বসাক এবং নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদুল ইসলাম সহ আদালতের কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। 

এ সময় জেলা পুলিশ লাইন্স থেকে আগত পুলিশের একটি চৌকস দল বিচারপতিদ্বয়কে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

গার্ড অব অনারের সময় বিউগলের সুরে আদালত প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় আদালতে উপস্থিত বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

আদালত পরিদর্শনকালে বিচারপতিদ্বয় নবীনগর চৌকি আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ মিজানুর রহমান এবং বাঞ্ছারামপুর চৌকি আদালতের জজ আনন্দ পালের এজলাসে বিচারকার্য পরিচালনা প্রত্যক্ষ করেন। তাঁরা আদালতের কার্যক্রম, বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনজীবীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি উপস্থিত বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় আদালতে আসা বড়িকান্দি গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়া (৬০) বলেন, “সংগ্রামের পর থেকেই এই আদালতে আমার আসা-যাওয়া। জীবনে প্রথম দেখলাম নবীনগরে দুইজন বিচারপতি এসে আদালতের হালচাল দেখলেন। এটি আমাদের জন্য আনন্দের ও স্মরণীয় একটি ঘটনা।”

 বিচারপতিগণ আদালত প্রাঙ্গন, বার লাইব্রেরী এবং বিজ্ঞ আইনজীবীগণের চেম্বার পরিদর্শন করেন। বার লাইব্রেরী পরিদর্শনের সময় বারের সভাপতি, সেক্রেটারী সহ সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। 

স্থানীয় বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, নবীনগর দেওয়ানী আদালতে একই দিনে হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতির পরিদর্শন উপজেলার বিচারপ্রার্থী মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা। তাঁদের প্রত্যাশা, আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত বিচারসেবা পাবেন।

বিচারপ্রার্থীদের অনেকে নবীনগরে দেওয়ানী মামলার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার বিচারকার্যও দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু করার দাবি জানান। তাঁদের আশা, আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত ও গতিশীল হলে দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষ আরও সহজে ও দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন