মোঃ ইকরাম হাসান, তিতুমীর কলেজ
প্রকাশ: ০৯:৪২, ১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৪৫, ১ অক্টোবর ২০২৬
এই দিকে আলোচনায় থাকা অধিকাংশ ছাত্রনেতাদের শেষ ছাত্রত্ব। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা প্রতিনিয়ত কর্মসূচিও পালন করছেন।
নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী এসব নেতার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে তারা জেল-জুলুম ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার ভিত্তিতেই নতুন কমিটিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার দাবি করছেন তারা।
নতুন কমিটিতে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সস্য সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব সেলিম রেজা (২০০৮-০৯ সেশন) ও একই সেশনের আরিফ মোল্লা এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজি সাইফুল ইসলাম। এছাড়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ (২০১১-১২), হামদে রাব্বী আকরাম (২০১০-১১), মিরাজ আল ওয়াসী (২০১০-১১), শিহাব উদ্দিন সিয়াম (২০১১-১২), রিমু হোসাইন (২০১৩-১৪), জিহাদ হাওলাদার (২০১৩-১৪) ও জহিরুল ইসলাম (২০১৩-১৪) রয়েছেন আলোচনায়।
অন্যদিকে শীর্ষ নেতৃত্বে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও আলোচনায় রয়েছেন আকরাম হোসেন টোটন (২০১১-১২), হাসান উল্লাহ মির্জা (২০১৪-১৫), শহীদুল ইসলাম (২০১১-১২) ও আবু হুজাইফা রকি (২০১২-১৩) এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দাবি রয়েছে এমন কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় এসেছে। তারা হলেন নোবেল ইসলাম সূর্য (২০১৫-১৬), মাসুদ রানা পাটোয়ারী (২০১৫-১৬), মোহাম্মদ রফিক (২০১২-১৩), মো. আক্তার হোসেন (২০১০-১১) ও খান মোহাম্মদ ইউসুফ আলী (২০১১-১২)। তারা আগের আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আলোচনায় থাকা নেতাদের শিক্ষাবর্ষ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাদের একটি বড় অংশ ২০১১-১২ সালের আগেই তিতুমীর কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ফলে তাদের অনেকেরই ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। সবচেয়ে পুরোনো শিক্ষাবর্ষের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ২০০৮-০৯ সেশনের সেলিম রেজা ও আরিফ মোল্লা।
দীর্ঘদিন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিলেও পদপ্রত্যাশী অনেক নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়ানোর অভিযোগে অনেক নেতা ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে শোকজের মুখেও পড়েছেন। সাংবাদিক পেটানোর ঘটনার পরদিন নেতৃত্ব হারানো সেলিম রেজার বিরুদ্ধে এর আগে এক শিক্ষার্থীকে রাজউকে নিয়ে নির্যাতন এবং কলেজে ছাত্রমৈত্রীর কর্মীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘মোল্লা’ গ্রুপ ও ‘জলতরঙ্গ’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ মোল্লা এবং ‘জলতরঙ্গ’ গ্রুপের প্রধান ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন সিয়াম ও জিহাদ হাওলাদারের পদ স্থগিত করা হয়। একই ঘটনায় যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম নাহিদ ও মোল্লা গ্রুপের জলিল আদিককে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংঘর্ষে আটজন গুরুতর আহত হন।
কলেজ ছাত্রদলের আরেক পদপ্রত্যাশী রিমু হোসাইনের বিরুদ্ধেও দল ভারী করতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল কয়েকবার। যদিও পরবর্তীতে এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে পদপ্রত্যাশী নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে নেতৃত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিতে এমন নেতাদের নেতৃত্বে আনা হবে, যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো বোঝেন।
উল্লেখ্য, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডাটা পর্যালোচন করলে দেখা যায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রত্ব থাকার কথা নয় নেতৃত্ব প্রত্যাশী কোনো ছাত্রনেতার।শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার কথা অনেক বছর আগেই।কারো কারো ক্ষেত্রে এক যুগের ওহ আগে।