ওষুধের দোকানে চুরি, ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৪

মোঃ সাব্বির আহমেদ, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশ: ২১:৫৩, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওষুধের দোকানে চুরি, ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৪

ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ওষুধের দোকানে চুরির ঘটনায় ১৭ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের তিন সদস্য ও চোরাই ওষুধ কেনার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন—বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কুকিবাজিত গ্রামের মৃত বাবু মিয়ার ছেলে মো. রাজু মিয়া (৩২), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুনতাইর বাকপাড়া গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৬০), নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পশ্চিম পুড়াদিয়া গ্রামের মৃত আজম আলীর ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন (৫৫) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বঙ্কিম চন্দ্র সরকারের ছেলে শিখর চন্দ্র সরকার (৩০)।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ঠাকুরগাঁও শহরে কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথের ওষুধের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি দোকান থেকে প্রায় ১৭ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন দামি ওষুধ নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় দোকানমালিক ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে মামলা করা হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের একটি যৌথ দল তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে রাজু, জাহাঙ্গীর ও বিল্লালের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। পরে বগুড়া, গাইবান্ধা ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের দশমাইল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপটিও জব্দ করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা চোরাই ওষুধ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ী শিখর চন্দ্র সরকারের কাছে বিক্রি করার কথা জানান। পরে গোবিন্দগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তার দোকান থেকে শিখরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, শিখরের বসতবাড়ি ও দোকানে তল্লাশি চালিয়ে চুরি যাওয়া সব ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে দোকানমালিক কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথ উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো শনাক্ত করেন।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার রাজু, জাহাঙ্গীর ও বিল্লাল আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন