মোঃ রুহুল আমিন রাসেল, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ০২:৪০, ২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০২:৪১, ২ অক্টোবর ২০২৬
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা ওই চিঠিতে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সালাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারীর দাবি, তথ্য গোপন করে একাধিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের ফয়জুল হোসেন গত ১৬ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে ফয়জুল হোসেন উল্লেখ করেন, আব্দুস সালাম বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার ইনডেক্স নম্বর R841114। একই সঙ্গে তিনি সরকার অনুমোদিত ‘আল আকসা ট্রাভেল’ নামের একটি হজ এজেন্সির (নিবন্ধন নম্বর ১৪৩৫) মালিক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, ব্যবসায়িক কাজে বছরের একটি বড় সময় আব্দুস সালাম মক্কা-মদিনায় অবস্থান করেন। ফলে কলেজে নিয়মিত পাঠদান ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনে প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একই ব্যক্তি একাধিক পেশায় যুক্ত থাকায় কোনো দায়িত্বই যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে গোকুন্ডা ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন ও বিচ্ছেদসংক্রান্ত কার্যক্রমেও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফয়জুল হোসেনের অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, লালমনিরহাট জেলার প্রায় ১২ থেকে ১৫ জন নিকাহ রেজিস্ট্রার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ অন্যের মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধনের কাজ পরিচালনা করায় বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়া চিঠি জারি করেন। এতে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আব্দুস সালামের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা কাজি সমিতির সভাপতি ও বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, “শুধু আমি নই, সারাদেশে অনেক নিকাহ রেজিস্ট্রার শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদকে তার ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (মাধ্যমিক স্কুল শাখা) রোকসানা বেগম বলেন, “কলেজ শাখার এমন একটি চিঠি এসেছে। বিষয়টি পরিচালক মহোদয় তদন্ত করবেন। স্কুল-মাদ্রাসায় কর্মরত কেউ একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এখন তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক একই সঙ্গে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না—তা প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।