এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১১:১৪, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
নগরের জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে নারকেলের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। দিনভর জেলার বিভিন্ন এলাকায় চারা রোপণ করা হয়। সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটসংলগ্ন ডিসি পার্কে র্যালি শেষে এক লাখতম চারা হিসেবে নারকেলের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
এ উদ্যোগকে সারা দেশের জন্য দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, চট্টগ্রামের এ উদ্যোগ অন্য জেলাগুলো অনুসরণ করলে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিভিন্ন দাবিতে নানা আন্দোলন হলেও ১৫ হাজার মানুষের এ কর্মসূচি ছিল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন। এটি আগামী প্রজন্মের বেঁচে থাকার আন্দোলন।
জেলা প্রশাসন জানায়, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘এক দিনে লক্ষ বৃক্ষ, সবুজ পরিবেশ আমাদের লক্ষ্য’ প্রতিপাদ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। এক লাখ চারা সংগ্রহ, বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানো এবং রোপণের জন্য গর্ত প্রস্তুত করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন ৪০ হাজার চারা সরবরাহ করেছে। বাকি চারা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় সংগ্রহ করা হয়। উপকূলীয় পরিবেশ বিবেচনায় সন্দ্বীপে প্রায় এক হাজার নারকেলগাছ রোপণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আনোয়ারায় রোপণ করা হয়েছে ২০ হাজার গাছ।
শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলো বাঁচিয়ে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চারার সুরক্ষায় বেড়া, তদারকি কমিটি এবং পরিচর্যার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কোনো চারা মারা গেলে বা দুর্বল হয়ে পড়লে প্রতিস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ হাজার চারা মজুত রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা চট্টগ্রামে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে জানমাল রক্ষায় স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলবে, তবে তা যেন আগামী প্রজন্মের জন্য পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছও রক্ষা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি কর্নেল খলিল উল্লাহ, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন ও জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
উল্লেখ্য, এর আগে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক থাকাকালে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দুই মাসে এক লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। ২০২৫ সালের ১০ মে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচি শেষ হয় ১০ জুলাই। সেদিন সাইনবোর্ড এলাকার সড়কদ্বীপে এক লাখতম গাছ হিসেবে কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করা হয়।