আব্দুল কাদের, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ১৭:১৩, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লাইনচ্যুত হওয়া আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সান্তাহার রেলওয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (কমার্শিয়াল) মো. হাবিবুর রহমান।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মির্জাপুরের মহেড়া রেলস্টেশন এলাকায় পৌঁছালে একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে এ ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ও রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করা হয়। পরে লাইন পরিষ্কার করে বিকল্প লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন) রবিউল ইসলাম, বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন-২) নাজিব কায়সার (বিন্দু) এবং বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকোমোটিভ) শেখ আসিফ আহমেদ।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি কী কারণে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে তদন্তকাজ শুরু করেছি। পাশাপাশি রেললাইনের পরিমাপ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, ইঞ্জিনের গতি ও পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।”
তিনি আরও জানান, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।