খোরশেদ আলম, নোয়াখালী
প্রকাশ: ১৭:৩৭, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৩৯, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
নোয়াখালীর সুর্বণচর উপজেলার আবদুল্যা মিয়ার হাট ভূমি সহকারী কর্মকতা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারী জমি টাকার বিনিময়ে ব্যক্তিগত পাবলিকের পক্ষে খাজনা আদায়ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমা-খারিজ, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন ওই কর্মকর্তা। সরকারি নির্ধারিত ফি থাকলেও কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি জমা-খারিজ শেষে হোল্ডিং নম্বর খোলার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, “জমা-খারিজ করার পর হোল্ডিং নম্বর খুলতে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। পরে খাজনা দেওয়ার জন্য আবেদন করতেও আবার টাকা দাবি করা হলে আমরা বাধ্য হয়ে দাখিলা না কেটেই ফিরে আসি।”
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের পরও যথাযথ রশিদ প্রদান করা হয় না। রশিদ চাইলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দিনের বেলায় নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং সন্ধ্যার পর অফিসে আসেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জয়নাল আবেদীন জেলা শহর মাইজদীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে জমি ক্রয় করেন। এবং নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছেন। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল
চার ভাটা ভূমি অফিসেও একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। সেখানে কর্মরত অবস্থায়ও তিনি অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সাময়িক পানিশমেন্ট ও দেওয়া হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৪১৫ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে তার বিরুদে।
নোয়াখালী সুর্বণচরে চর জব্বর ইউনিয়নের রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন এলএসটি মামলা ২৫২০/২০২৪ এক তরফা ডিগ্রি যার নং ২০/২৬ইং আপিল মামলা দায়ের করেন এবং তফসিলদার জয়নাল আবেদীনকে অবহিত করে খতিয়ানে নোট দেওয়া হয় এর পরে ও তিনি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জমা খারিজের প্রস্তাব দেন।
মূলত তিনি আইনকে বৃদ্ধ আংগুল দেখিয়ে মোটা অংকের ঘুসের বিনিময়ে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন সরকারি ভূমি পাবলিকের পক্ষে খাজনা আদায় করেন। এটা সম্পূণ আইন পরিপন্থী। তিনি আরো জানান জয়নাল আবেদীন যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্ণীতি অভিযোগের শেষ নেই
তিনি সরকারি স্বার্থ সংকিষ্ট ভূমি পাবলিককের পক্ষে খাজনা আদায় করেন যার কারনে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় মামলা নং ১/২০২৫ যা বর্তমানে চলমান।
অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকতা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের বক্তব্য জানতে আবদুলা মিয়ার হাট ভূমি অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে, স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সুর্বণচর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)- এসিল্যান্ড সেন সং রাখায়িং জানান, আবদুল্যা মিয়ারহাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ কথা শুনেছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং ঘটনার সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার হবে বলে ও জানান তিনি।