মোঃ আবুল বাসার, যশোর
প্রকাশ: ১২:২০, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলিয়া আফরিন (চেঙ্গুটিয়া গ্রামের মৃত তৈয়ব দফাদারের মেয়ে) এবং দপ্তরি মোস্তাফিজুর রহমান (বাহিরঘাট গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে)। আর মূল অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন একই উপজেলার বুইকারা গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর (সোমবার) বিদ্যালয় চলাকালে বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বাথরুমে যায়। এ সময় সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন বাথরুমে প্রবেশ করে মেয়েটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
পরের দিন বাড়ি ফিরে মেয়েটি স্কুলে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তার মা কারণ জানতে চান। তখন সে শিক্ষকের এই পাশবিক নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শেখ লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানির পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্বজনরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলিয়া আফরিনকে বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু তিনি একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেননি। উল্টো তিনি দপ্তরি মোস্তাফিজুর রহমানের সহযোগিতায় মূল অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন।
তিনি আরও জানান, অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় নওয়াপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। বিদ্যালয়ের মতো একটি নিরাপদ স্থানে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা এবং শিক্ষক কর্তৃক অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।