মুহাম্মাদ এমাদুল ইসলাম, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ১৩:০০, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে বেলা ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক সুরতহালে আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ঘটনায় রাঙ্গাবালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে রাসেল মাহমুদের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শিলা। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগে থাকত। সামান্য বিষয় নিয়েও প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হতো। একাধিকবার রাতে শিলাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরিবারের দাবি, শিলার পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে তাঁকে চাপ দিতেন রাসেল।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, পৈতৃক জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ স্বামীর হাতে তুলে দিতেন শিলা। সেই টাকা দিয়ে রাসেল তাঁর প্রথম স্ত্রীর সংসার চালাতেন। প্রথম স্ত্রীকে কেন্দ্র করেও তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল। এ ছাড়া রাসেলের বিরুদ্ধে শিলার বাবার দোকান দখলে রাখার অভিযোগও করেছেন স্বজনেরা।
শিলার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে লাবিবা আক্তার জানায়, গত এক বছর ধরে রাসেল তাঁর মাকে নিজের সঙ্গে ঘুমাতে দিতেন না। তিনি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ঘুমাতেন। রাতে মা-বাবার মধ্যে ঝগড়ার শব্দ শুনলেও ভয়ে নিচে যেত না। প্রায়ই তাঁর মাকে রাতে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হতো বলেও জানায় সে।
লাবিবা বলে, ‘গত রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। কী হয়েছে, তা দেখিনি। সকালে কেয়া খালামনি আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। পরে দেখি, আম্মুকে বিছানায় শুইয়ে রাখা হয়েছে।’
প্রতিবেশী কেয়া বেগম বলেন, সকালে শিলার স্বামী রাসেল তাঁকে ডেকে নেন। ঘরে গিয়ে তিনি শিলাকে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে জানতে পারেন, রাতে স্বামী-স্ত্রী একই বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন। রাসেল বয়াতি মরদেহটি নামিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
নিহতের বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম সজল বলেন, লোকমুখে বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে তাঁর গলায় ফাঁসের দাগ দেখতে পান। পরে তাঁর ছোট ভাই কমল পুলিশকে খবর দেন। তাঁর দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃত্যুর বিষয়টি স্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে যুবদল নেতা রাসেল মাহমুদ আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তদবির চালানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাসেল মাহমুদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘যা বলার জানাজা নামাজের সময়ে বলব।’
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’