কীর্তনখোলায় কোস্টগার্ডের জাহাজের ধাক্কায় বিপাকে গমবাহী কার্গো

আহমেদ বায়েজিদ, বরিশাল:

প্রকাশ: ১৯:২৩, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

কীর্তনখোলায় কোস্টগার্ডের জাহাজের ধাক্কায় বিপাকে গমবাহী কার্গো

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় তলা ফেটে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে খাদ্য বিভাগের জন্য গম নিয়ে আসা ‘ডিবী পাপীয়া’ নামের একটি কার্গো। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বরিশাল খাদ্য বিভাগের জেটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কার্গোটিতে থাকা ৩০০ টন গমের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দেয় উদ্বেগ। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় কার্গোটি ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।

কার্গো সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সাইলো থেকে ৩০০ টন গম নিয়ে বরিশালে আসে ‘ডিবী পাপীয়া’। খাদ্য বিভাগের জেটিতে গম খালাসের অপেক্ষায় থাকার সময় কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় কার্গোটির তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কার্গোতে থাকা কর্মীরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কার্গোটি ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। এ সময় অধিকাংশ গম উদ্ধার করা গেলেও কিছু গম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কার্গোটির ইনচার্জ মানিক হোসেনের অভিযোগ, কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের কার্গোতে ধাক্কা দেয়। এতে কার্গোর তলা ফেটে পানি ঢুকতে থাকে। দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত।

এদিকে, দুর্ঘটনায় আশপাশে থাকা কয়েকটি স্পিডবোটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ ও জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

কীর্তনখোলা নদী বরিশালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথে প্রতিদিন পণ্যবাহী কার্গো, যাত্রীবাহী নৌযান, স্পিডবোটসহ বিভিন্ন ধরনের জলযান চলাচল করে। এমন ব্যস্ত নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব নৌযানকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে খাদ্য বিভাগের জেটি ও পণ্যবাহী নৌযানের আশপাশে চলাচলের সময় গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় নৌ-নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করা জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও সরকারি সম্পদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ ঘটনায় কারও দায়িত্বে অবহেলা, অসতর্কতা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে প্রচলিত আইনে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের ভূমিকা, জাহাজ পরিচালনায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না এবং দুর্ঘটনাটি নিছক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি খাদ্যশস্যের সঠিক পরিমাণ নিরূপণ, উদ্ধার করা গমের মান যাচাই এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতির হিসাব প্রকাশের বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অপরাধ বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে তাঁর পদমর্যাদা কিংবা পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন