মোঃ রবিন হোসেন, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ)
প্রকাশ: ২২:০১, ৪ নভেম্বর ২০২৬
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.শাহীন মিয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার ফারহানা নাসরিন, সহকারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ফিল্ড সুপার ভাইজার এস এম শফি কামাল (রুমন), ইউনিয়ন সমাজ কর্মী মোঃ রাকিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ৩৮ জন তথ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে ট্যাব বিতরণ করা হয়। এসব প্রযুক্তিসামগ্রীর সাহায্যে উপকারভোগী পরিবারের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সৌরভ রেজা শিহাব বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এ কর্মসূচির সুবিধা যেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও উপযুক্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব কিংবা অনিয়মের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা এ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই উপকারভোগী নির্বাচনসহ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ কারণে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহীন মিয়া বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মাঠপর্যায়ে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ। এ কাজে তথ্য সংগ্রহকারীদের দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই। একটি ভুল তথ্যের কারণে প্রকৃত উপকারভোগী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। আবার অযোগ্য কেউ সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তাই প্রতিটি তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে সংগ্রহ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহের সময় প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা জরুরি। তাড়াহুড়া, অনুমাননির্ভর তথ্য কিংবা পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো তালিকা তৈরি করা যাবে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। দায়িত্ব পালনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রকৃত উপকারভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অনুপযুক্ত কেউ যেন এ সুবিধা নিতে না পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ কাজকে কেবল দাপ্তরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না; এটিকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে দেখতে হবে। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের উদ্যোগ আরও সুষ্ঠু ও কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এ প্রশিক্ষণের ফলে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীদের দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও কার্যক্রমের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে।