শরীয়তপুরে নামজারিতে ঘুষের অভিযোগ তহসিলদারের বিরুদ্ধে

শান্ত মিয়া জাজিরা (শরীয়তপুর)

প্রকাশ: ২২:৫৬, ৪ নভেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরে নামজারিতে ঘুষের অভিযোগ তহসিলদারের বিরুদ্ধে

শরীয়তপুরের জাজিরায় জমির নামজারিতে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির পর দালালের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে মুলনা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) কলির বিরুদ্ধে। এরআগে দর-কষাকষির মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকায় ঘুষের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী মকসেদ আকনের অভিযোগ, ডিগ্রিমূলে পাওয়া জাজিরা উপজেলার লাউখোলা মৌজার একটি জমির নামজারির জন্য আবেদন করেন তিনি। এ সময় নামজারির ফাইল আটকে রেখে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) কলি তাঁর কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য তাঁকে সেনেরচর ইউনিয়নের হাওলাদার কান্দি এলাকার (১ নম্বর ওয়ার্ড) সাবেক ইউপি সদস্য সালাম হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন ওই তহসিলদার।

ভুক্তভোগী মুঠোফোনে সালাম হাওলাদারকে বিষয়টি জানালে তিনি তহসিল অফিসে আসেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে তহসিলদার কলির কক্ষে গেলে তিনি ক্যালকুলেটারে কিছু একটা সালাম হাওলাদারকে দেখান। এ সময় তহসিলদার সালামকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এর কম হলে পারব না।’

এরপর সালাম হাওলাদার ভুক্তভোগীকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে জানান, সাধারণত একটি নামজারি করতে আমাদেরই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দিতে হয়। তবে ওই জমিতে কিছুটা জটিলতা থাকায় ম্যাডাম ৫০ হাজার টাকা চেয়েছেন। এ কথোপকথনের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ৪০ হাজার টাকায় বিষয়টি সমাধানের কথা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুলাই শুক্রবার সকালে সেনেরচর ইউনিয়নের হাওলাদার কান্দি এলাকার পল্লিচিকিৎসক আবুল কালামের দোকানে দাঁড়িয়ে সালাম হাওলাদারকে ২০ হাজার টাকা দেন ভুক্তভোগী মকসেদ আকন।

টাকা লেনদেনের বিষয়ে পল্লিচিকিৎসক আবুল কালাম বলেন, ‘মকসেদ আকন সালাম হাওলাদারকে কোনো একটি জমির মিউটেশন করার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আমার দোকানেই টাকা লেনদেন হয়েছে। আমি এতটুকুই জানি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি সদস্য সালাম হাওলাদার তহসিলদার কলির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

অন্যদিকে তহসিলদার কলির কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ভুক্তভোগীকে নিয়ে আসতে বলেন। এ ছাড়া এ বিষয়ে তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত তহসিলদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন