বাজিতপুর বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র, আহত শতাধিক

জাহাঙ্গীর আলম, বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)

প্রকাশ: ২২:৫১, ৫ নভেম্বর ২০২৬

বাজিতপুর বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র, আহত শতাধিক

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর বাজারে কৈলাগ ইউনিয়ন ও পৌরসভার দরিঘাগটিয়া এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাজিতপুর বাজারের এমপি মার্কেটের সামনে জিদান ও দরিঘাগটিয়া এলাকার কালামের মধ্যে কথা-কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। একটি মোবাইল ফোনের দোকানের ভেতর থেকে কালাম জিদানকে উদ্দেশ করে ‘তুই বাজারে কী করস’ বলে প্রশ্ন করলে পূর্ববিরোধের জেরে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মুরাদের দোকানে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর জিদান কৈলাগ ইউনিয়ন থেকে লোকজন নিয়ে বাজিতপুর বাজারে এসে কালামকে না পেয়ে ওই মোবাইল ফোনের দোকানদারের ওপর টেঁটা দিয়ে আঘাত করেন এবং দোকানে ভাঙচুর চালান। পরে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দরিঘাগটিয়া এলাকার লোকজন বাজিতপুর বাজারে জড়ো হন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো বাজিতপুর বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একপর্যায়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার লোকজনও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।

সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়।

এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম শহিদুল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, “আমাদের ফোর্স রয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। পরে বিস্তারিত জানাব।”

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং সংঘর্ষ চলমান থাকার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে আহতদের প্রকৃত সংখ্যা, পরিচয় ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন