ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব হারানোর শঙ্কা ইউরোপের: মেলোনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩:৫৩, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব হারানোর শঙ্কা ইউরোপের: মেলোনি

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় ইউরোপের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি

তার মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীন কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং পৃথক পৃথক আলোচনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকে একজন একক প্রতিনিধি নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ওই প্রতিনিধির হাতে আলোচনার জন্য সুস্পষ্ট ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা বলেন মেলোনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে মেলোনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও পক্ষের উদ্যোগে একাধিক আলোচনার কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এতে ইউরোপের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে এবং মনে হচ্ছে, কোনো সুসংগঠিত পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউরোপ কার্যত গুরুত্ব হারাতে পারে।

তিনি বলেন, আলোচনার ধরন বা কাঠামোর চেয়ে চূড়ান্ত ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই ফলাফলে কার্যকর প্রভাব রাখতে হলে ইউরোপকে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে। এ জন্য কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং তাঁর আলোচনার ক্ষমতা কতটুকু হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

মেলোনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি নিজে কিংবা ইতালির জন্য আলোচনার টেবিলে কোনো বিশেষ আসন চাইছেন না। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়া কোনো প্রতিনিধি সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা করলে তা মেনে নেবে না রোম।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। কোথাও কয়েকটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করছেন, কোথাও ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। আবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর মধ্যে পৃথক আলোচনা চলছে। মেলোনির মতে, এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় ইউরোপের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এমন পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে, যারা যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চায়। মানুষের জীবন এবং ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত থাকায় এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তিন দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।

এর আগে বুধবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রাসেলসে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও ন্যাটোর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার পৃথক আলোচনা হয়েছে।

মেলোনি চান, আগামী সপ্তাহে ডাবলিনে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় কাউন্সিলের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসুক। এরপর যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ডিসেম্বরের সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় আর্থিক ও সামরিক সহায়তাকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় জোটটির আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইউরোপের অবস্থান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মেলোনির সাম্প্রতিক চিঠি সেই উদ্বেগকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন