মেলানিয়া ট্রাম্পকে ইউক্রেনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২১:৪৬, ৪ নভেম্বর ২০২৬

মেলানিয়া ট্রাম্পকে ইউক্রেনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে দেশটির নারীদের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এক ডিক্রিতে বলা হয়েছে, দেশটির জন্য মানবিক সহায়তায় ‘ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান’ রাখার স্বীকৃতি হিসেবে মেলানিয়াকে ‘অর্ডার অব প্রিন্সেস ওলগা’র প্রথম শ্রেণির পদক দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর এ সম্মাননা দেওয়া হলো। ওই যুদ্ধবিরতির সুযোগে রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহর থেকে কয়েক শ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দুই দেশের ন্যায়পাল এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে বৈঠক করার কথা রয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, মেলানিয়া ট্রাম্প ‘স্বাধীনভাবে যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং সফলভাবে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছেন’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অর্জন একজন মার্কিন ফার্স্ট লেডির নেওয়া নজিরবিহীন কূটনৈতিক উদ্যোগের উদাহরণ।

যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই বারবার মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা কী ছিল বা কতটা ছিল, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের বৈঠকে ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস এবং তার রুশ প্রতিপক্ষ ইয়ানা লানত্রাতোভা অংশ নেবেন। এ ছাড়া ইউক্রেনের সংসদ সদস্য দাভিদ আরাখামিয়া এবং রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিরিল দিমিত্রিয়েভও প্রতিনিধিদলে থাকবেন।

গত সপ্তাহে লুবিনেৎস ও লানত্রাতোভা একসঙ্গে ওলেশকি শহরে যান। রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের যৌথ সফরকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরল সহযোগিতার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেলেনস্কির দলের সংসদীয় প্রধান আরাখামিয়া এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময় হোয়াইট হাউস ও মস্কোর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরাখামিয়া।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রতিনিধিদলে থাকবেন লানত্রাতোভা ও কিরিল দিমিত্রিয়েভ। দিমিত্রিয়েভ রুশ প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যবসায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তিনি প্রায়ই অংশ নিয়েছেন।

দিমিত্রিয়েভ ও আরাখামিয়া—দুজনই উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় অভিজ্ঞ হলেও কোনো মার্কিন ফার্স্ট লেডির উদ্যোগে এ ধরনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের বৈঠক আয়োজনের ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না।

হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লুবিনেৎস বলেন, ‘সামনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈঠক রয়েছে।’

হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (জিএমটি ১৬:০০) ওলেশকির যুদ্ধবিরতি নিয়ে বক্তব্য দেবেন মেলানিয়া ট্রাম্প।

জেলেনস্কির ডিক্রিতে মেলানিয়ার অন্যান্য মানবিক কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনীয় শিশুদের নিয়ে তার উদ্যোগও রয়েছে। এসব অবদানের স্বীকৃতিতেই তাকে প্রিন্সেস ওলগা পদক দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন