যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২:১৮, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছে ভারত

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের পর আমদানির উৎস বহুমুখী করতে ভারতের অনুরোধ বিবেচনায় নিতে রাজি হয়েছে কাতার। নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ভারতের প্রস্তাব বিবেচনা করছে দেশটি।

ভারতের শীর্ষ গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার বিবেক মিত্তাল বলেন, ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু এলএনজি সংগ্রহের বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ভারতের সবচেয়ে বড় এলএনজি সরবরাহকারী কাতারের সঙ্গে পেট্রোনেটের বছরে ৭৫ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস সরবরাহের চুক্তি রয়েছে। ২০২৮ সালের এপ্রিলে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও ২০ বছরের জন্য, অর্থাৎ ২০৪৮ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে।

মিত্তাল বলেন, নবায়ন করা চুক্তির আওতায় সরবরাহের উৎস বহুমুখী করার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভারতের অনুরোধ বিবেচনা করে কাতার তাদের অন্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা গ্যাসের একটি নির্দিষ্ট অংশ সরবরাহ করতে পারে।

গত মাসে কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের উডসাইডের স্থাপনা থেকে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার জন্য ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি করেছে। ২০৩০ সাল থেকে এ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

এ ছাড়া চেনিয়ার এনার্জির সঙ্গে ২০৫৪ সাল পর্যন্ত বছরে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস কেনার দুটি চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়া এবং রাস লাফান স্থাপনায় হামলার পর গত মার্চে এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজর ঘোষণা করে কাতারএনার্জি। আপাতত এ স্থগিতাদেশ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পর ভারত যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। কাতারের সরবরাহ স্থগিত থাকায় পেট্রোনেট তিনটি এলএনজি ট্যাংকারের সময়ভিত্তিক ভাড়া চুক্তিও স্থগিত করেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন