নেছারাবাদে জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতিকে পিটিয়ে জখম, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

‎মোঃ ফরিদ আহমেদ, ​নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

প্রকাশ: ২২:০৮, ৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:০৯, ৭ নভেম্বর ২০২৬

নেছারাবাদে জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতিকে পিটিয়ে জখম, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে বাড়িতে ঢুকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে মো. শফিকুল ইসলাম (৪০) নামের জামায়াতে ইসলামীর এক ওয়ার্ড সভাপতিকে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
‎
‎শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ৮নং সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
‎
‎​আহত শফিকুল ইসলাম উপজেলার ৮নং সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয়  জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতি। 
‎​
‎​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুরে ইমরান খন্দকারের নেতৃত্বে মনোজ বিশ্বাস, জাকির খান, সুমন খান, সুমন আইচসহ ১২-১৪ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় মন্দির ভাঙা ও মন্দিরের জমি দখলের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
‎
​শফিকুল আরও জানান, তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান এগিয়ে এলে তাঁকেও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। ভাইকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এই হামলার পেছনে সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের টুটুল আইচের উসকানি ও নির্দেশনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
‎​
‎​এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে টুটুল আইচ বলেন, "শফিকুল ৫ আগস্টের পর তাঁদের শীতলা মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত একটি জমি দখল করে নিয়েছেন। এই জমি নিয়ে তাঁর সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধ রয়েছে। তবে শনিবার দুপুরে আমি ইউনিয়নের দুর্গাকাঠীতে একটি কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এ হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না এবং মন্দিরের ঘটনার সঙ্গে এই মারামারির কোনো সম্পর্ক নেই।"
‎
‎​তিনি আরও জানান, ইমরান খন্দকার ও শফিকুলের মধ্যে একটি সুপারি বাগান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরেই তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
‎
‎​অপর অভিযুক্ত ইমরান খন্দকার দাবি করেন, তিনি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের একটি পুকুরসহ ২৭ শতাংশ জমির সুপারি বাগান তিন বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন। শনিবার দুপুরে বাগান থেকে সুপারি পাড়তে গেলে শফিকুল ও তাঁর ভাই সিদ্দিকসহ কয়েকজন এসে সুপারি নিয়ে যান। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে আত্মরক্ষার্থে তাঁরাও দু-চারটি কিল-ঘুষি দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
‎
‎​ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, "শফিকুল আমাদের দলের সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি। শনিবার দুপুরে একদল লোক তাঁর বাড়িতে ঢুকে মন্দিরের জমি দখলের মিথ্যা অভিযোগে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দলীয়ভাবে আহত নেতার পাশে রয়েছি।"
‎
‎​এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, 'জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা শুনেছেন। ঘটনার বিষয়ে একটি পক্ষ থানায় এসেছিল, তবে তাদের প্রথমে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরও পড়ুন