মো. মাহমুদ শেখ, খুবি
প্রকাশ: ১২:১৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গত ১৯ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অ্যাকাডেমিক টার্ম পুরোদমে শুরু হলেও ডিসিপ্লিনগুলোতে এখনো টিএ নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। ফলে সম্ভাবনাময় এ অ্যাকাডেমিক উদ্যোগটি চালুর মাত্র এক বছরের মাথায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ১৮৯তম সভায় ‘পলিসি অন টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ অ্যাট খুলনা ইউনিভার্সিটি’ অনুমোদন পায়। এর ভিত্তিতে একই বছরের ২৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে প্রতিটি ডিসিপ্লিনকে অনধিক ৩ জন করে টিএ নিয়োগের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, নিজ ডিসিপ্লিনের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে টিএ নির্বাচনের নিয়ম চালু হয়। এতে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা ধরা হয় স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৫০ (কলা ও মানবিক স্কুলের ডিসিপ্লিনের জন্য ৩.২৫)। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রতি টার্মে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা সম্মানীর বিনিময়ে সপ্তাহে অনধিক ১০ ঘণ্টা টিউটোরিয়াল ক্লাস, ল্যাব পরিচালনা ও মূল্যায়নের মতো অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান জানান, নীতিমালা অনুমোদনের পর প্রথম দফায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে মোট ৮২ জন শিক্ষার্থীকে টিএ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে একজনের নিয়োগ বাতিল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৮১ জনকে চূড়ান্ত পদায়ন করা হয়। দ্বিতীয় দফায় আরও ৮৭ জন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই দফায় মোট ১৬৮ জন শিক্ষার্থী টিএ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।
বাজেট ও অর্থায়ন সংকটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ পারভেজ জানান, শুরুতে নিজস্ব গবেষণা অনুদানের অর্থ দিয়ে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে নীতিমালা প্রণয়ন করে ইউজিসিতে আবেদন জানানো হলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেনি। তবে বর্তমান প্রশাসন (ইউজিসি) উদ্যোগটির প্রশংসা করে পুনরায় আবেদন পাঠাতে বলেছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছে। তিনি আরও জানান, বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ইউজিসির বরাদ্দ পেতে দেরি হলেও উপাচার্যের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গবেষণা তহবিল থেকেই কার্যক্রমটি অব্যাহত রাখা হবে।
ইংরেজি ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও সাবেক টিএ মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট দেওয়ার বিষয়টি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি অভূতপূর্ব উদ্যোগ ছিল। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতা, গবেষণা আর অ্যাকাডেমিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারত, যা তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা কিংবা ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতো। কিন্তু হঠাৎ করে টিএ নিয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চমৎকার এই উদ্যোগটি অবিলম্বে পুনরায় চালু করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক সারা মনামী হোসেন বলেন, “শিক্ষকদের সাথে যাঁরা টিএ হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই খুব দক্ষ ও মেধাবী ছিলেন এবং শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিক কাজে সঠিকভাবে সাহায্য করতে পেরেছেন। বিশেষ করে গবেষণা ও ক্লাস-পরীক্ষা সংক্রান্ত রুটিন কাজগুলো তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এই প্রক্রিয়াটা যদি এভাবে থেমে যায়, তবে বিশেষ করে নতুন ডিসিপ্লিনগুলোর শিক্ষকদের ওপর বাড়তি কাজের চাপ পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “টিএ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই একটি চমৎকার অ্যাকাডেমিক চর্চা। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিএ-রা ব্যাপকভাবে কাজ করেন, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য একটি ভালো প্রস্তুতি ও গাইডলাইন তৈরি হয়। এই চর্চা বন্ধ হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
সার্বিক বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “টিএ কর্মসূচিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ ছিল। তবে চলতি অর্থবছরে ইউজিসির বাজেট না থাকায় এই সেমিস্টারে টিএ নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য আমরা আলাদাভাবে বাজেট চেয়ে ইউজিসির কাছে আবেদন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু কার্যক্রমটি একবার শুরু হয়েছে, তাই আমরা এটি চালু রাখার চেষ্টা করব তা বর্তমান কাঠামোতে হোক কিংবা অন্য কোনো উপায়ে।”
শীর্ষ সংবাদ: