চুয়েটে ২৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, অসুস্থ ২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:৩৭, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চুয়েটে ২৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, অসুস্থ ২ জন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ২৩ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে উপাচার্যসহ ভেতরে থাকা কয়েকজন আটকা পড়েন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুজন। পরে মধ্যরাতে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে রাত দেড়টার দিকে ভবনের ভেতরে উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। পরে চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক আবদুল্লাহ সেখানে যান।

অসুস্থ দুজন হলেন প্রকৌশলী শাহরিয়ার ও প্রকৌশলী টিটু সোহান। তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বলেন, তিনি সুস্থ আছেন। তবে তার সঙ্গে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় সবাই অসুস্থ ও ক্লান্ত বোধ করছেন বলেও জানান তিনি।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাউজানে অবস্থিত চুয়েট ক্যাম্পাসে যান উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। প্রশাসনিক ভবনের সামনের দরজার তালা ভেঙে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তাকে ভেতরে রেখেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর ভবনটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। এতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন