সেলিনা জিন্নাত ঐশী, নোবিপ্রবি(নোয়াখালী)
প্রকাশ: ১২:১৫, ৬ নভেম্বর ২০২৬
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সাহিত্যের মাধ্যমে আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিলেন। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে নজরুলের পদচারণা ছিল না। অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি একজন সার্বজনীন সাহিত্যিকের আসনে উন্নীত হয়েছিলেন। নজরুলকে জানতে হলে তাঁর দর্শনকে ভালোভাবে জানতে হবে। এ মহান কবির মানবতাবাদ ধারণ করে একটি উদারনৈতিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় কবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নজরুল বর্ষ ঘোষণার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কবির গান, কবিতা ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ প্রসারিত হচ্ছে। এ সময় তিনি নজরুল বর্ষের সফলতা কামনা করেন এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।
সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা সাধারণত তাঁকে বিদ্রোহী, সাম্য কিংবা মানবতার কবি হিসেবে চিহ্নিত করি। এগুলো তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলেও নজরুলের সৃষ্টিশীলতার পরিসর এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত। তাঁকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর সাহিত্যভাবনা, সৃজনশীলতার স্বাতন্ত্র্য, ভাষার ব্যবহার এবং সাহিত্যের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নজরুল বাংলা সাহিত্যে এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যখন সাহিত্যের একটি নির্দিষ্ট ধারা বেশ প্রভাবশালী ছিল। তবে তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন ভাষা, প্রকাশভঙ্গি ও বিষয়বস্তুর সংযোজন ঘটিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতায় যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তা বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত রীতিকে নতুনভাবে পরিচিত করেছে। ফলে নজরুলকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই।
বর্তমান সময়েও নজরুলের সাহিত্যভাবনার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, সমাজে যখন বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা কিংবা কর্তৃত্বের প্রশ্ন সামনে আসে, তখন নজরুলের সাহিত্য আমাদের নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তাঁর সাহিত্যকে বিভিন্ন আঙ্গিকে পাঠ ও বিশ্লেষণ করতে পারলেই সৃষ্টির নতুন নতুন মাত্রা উন্মোচিত হবে।
নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষক ড. আবুহেনা আবদুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. শিবলুর রহমান।
এ সময় নোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।