এআই প্রযুক্তি দিয়ে তিতুমীরের শিক্ষার্থী বাবলা মিয়ার বিশ্বজয় 

মোঃ ইকরাম হাসান, তিতুমীর কলেজ 

প্রকাশ: ১১:২৩, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই প্রযুক্তি দিয়ে তিতুমীরের শিক্ষার্থী বাবলা মিয়ার বিশ্বজয় 

গ্লোবাল আইটি মার্কেটপ্লেস ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চাহিদা এখন তুঙ্গে। আন্তর্জাতিক এই বাজারের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের ২০২১–২২ সেশনের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ বাবলা মিয়া।

গত দুই বছর ধরে এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা এই তরুণ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইভারে ‘টপ রেটেড সেলার’ হিসেবে মনোনীত হয়ে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের ক্লায়েন্টদের জন্য এক হাজারের বেশি সফল প্রজেক্ট সম্পন্ন করার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। গত এক বছরে তার পরিচালিত নিজস্ব এআই এজেন্সি থেকে পঞ্চাশ হাজারের বেশি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে, যেখানে বর্তমানে আট সদস্যের একটি টিম কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এআই খাতে তার এই কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে এখন দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান বাবলা মিয়া। সেই লক্ষ্য থেকেই বাংলাদেশি যুবসমাজের জন্য একটি বিশেষায়িত এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। নিজের এই উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মোঃ বাবলা মিয়া বলেন, বিশ্বজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক কাজের বাজারে এআই এর ব্যবহার এখন বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তিত কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে আমাদের দেশের তরুণদের দ্রুত পরিচিত করানো প্রয়োজন। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে হাতে কলমে ধারণা দিতেই আমি এই প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার লক্ষ্য শুধু দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা নয়, বরং তরুণদের জন্য বড় আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

শিক্ষার্থী বাবলা মিয়ার এমন বৈশ্বিক অর্জনে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত সরকারি তিতুমীর কলেজের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী। বাবলা মিয়ার এই অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে তাঁর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আক্তার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করছে, এটা অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। সে নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশি তরুণরা বিশ্বমানের। বিশেষ করে নিজের সফলতার পর সে যেভাবে দেশের অন্য শিক্ষার্থীদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করার ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়। আমরা তার এই মহৎ উদ্যোগের সার্বিক সাফল্য কামনা করি এবং ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের অনুপ্রেরণা দেওয়া হবে।

বাবলা মিয়ার সহপাঠী তিতুমীর কলেজের ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী আফরিন রিয়া বলেন, আমরাও তার এই সফলতায় আনন্দিত। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা অনেকেই এখন তার থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি এই খাতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য। আমরা বিশ্বাস করি গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসে এআই এর ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তার সাথে দেশের যুবসমাজকে পরিচিত করা, নতুন দক্ষতা তৈরি এবং তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন কর্মসংস্থানের পথ সুগম করতে বাবলা মিয়ার এই বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

আরও পড়ুন