আবদুল্লাহ সামি, কুমিল্লা (উত্তর)
প্রকাশ: ১১:২৮, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্প্রতি দাউদকান্দির পাঁচগাছিয়া দক্ষিণ ইউনিয়নের বাজারখোলা খালের পাশে বড় আকারের চায়না দুয়ারি জাল শুকাতে দেখা যায়। সেখানে আবুল হাশেম বেপারী জানান, এই জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষেধ—এমনটি তাঁর জানা নেই। তিনি ও তাঁর ভাতিজা শরীফ এসব জাল দিয়ে মাছ ধরেন। তাঁদের কাছে কয়েকটি কারেন্ট জালও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চায়না দুয়ারি জালে মাছের পাশাপাশি পোনা, সাপ, ব্যাঙ, কুঁচো ও কাঁকড়াসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ছে। দাউদকান্দির চরচরমহমুদ্দী, দৈয়াপাড়া, সুন্দলপুর, কাউয়াদী, বায়নগর ও জিংলাতলী এলাকায় এসব জালের ব্যবহার দেখা গেছে। তিতাসের গোমতী নদীর উত্তর-পশ্চিম পাড়ের কদমতলী, নারায়ণপুর, রতনপুর, দড়িকান্দি, দুলারামপুর, হাইদনকান্দি, মানিককান্দি, জগৎপুর, খানেবাড়ি ও গোবিন্দপুর এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
এ ছাড়া দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজার ও তিতাসের বাতাকান্দি বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
দাউদকান্দি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোসাঃ সাবিনা ইয়াছমিন চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর এসব বিষয়ে অভিযান চালানো হয়। এ বছর এখনো অভিযান করা সম্ভব হয়নি। ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। তাঁর দপ্তরে তিনি ছাড়া আর কোনো জনবল নেই।
তিতাস উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোসাম্মৎ নাজমা আক্তার বলেন, তাঁর দপ্তরে পাঁচ-ছয়জনের জনবল কাঠামো থাকলেও বর্তমানে তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন। ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হবে।
পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত (এআইপি) প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে বলেন, এসব জালে মাছের পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধরা পড়ছে। এতে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে মৎস্য দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।