মোঃআহছান উল্লাহ,কুমিল্লা
প্রকাশ: ১২:২৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া সরকারের ‘আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি জেলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার মোট সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৩৩ কোটি ৫৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এই মেগা প্রকল্পের অংশ হিসেবেই ২০১৯ সালের জুলাইয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন লালমাই বাজারের দক্ষিণ পাশে ৫ একর জমির ওপর কুমিল্লা কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের শেষ দিকে মূল ভবনসহ যাবতীয় অবকাঠামোগত কাজ পুরোপুরি শেষ হয়, যেখানে সরকারের সরকারের প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হতাশাজনক চিত্র। উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল ফটকে ঝুলছে তালা। দীর্ঘদিন সচল না করায় এবং ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের চারপাশ ও বিভিন্ন কক্ষে ধুলোবালির মোটা আস্তরণ পড়েছে। কিছু কিছু অংশে জমতে শুরু করেছে শ্যাওলা। অথচ ভেতরের ল্যাবগুলোতে রয়েছে আধুনিক কম্পিউটার, হাই-স্পিড ইন্টারনেট রাউটার, সেন্ট্রাল এসি, সাউন্ড সিস্টেম এবং দামি সব আসবাবপত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আইটি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিগত সামগ্রী দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখলে আর্দ্রতার কারণে মাদারবোর্ড ও অন্যান্য পার্টস দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মূল কার্যক্রম চালুর আগেই এগুলো কার্যক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল কুমিল্লা ও আশপাশের জেলার তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরের বিভিন্ন আধুনিক বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, প্রতি বছর অন্তত ৩ হাজার দক্ষ ফ্রিল্যান্সার ও আইটি উদ্যোক্তা তৈরি করা, যারা দেশের রেমিট্যান্সে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু উদ্বোধনের তিন বছর পরও প্রশিক্ষণের একটি ব্যাচও শুরু করা যায়নি। ফলে স্থানীয় হাজার হাজার বেকার যুবকের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অবকাঠামো ও ল্যাব প্রস্তুত থাকলেও মূল কার্যক্রম চালুর জন্য যে ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি জনবল (যেমন: ট্রেইনার, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, আইটি এক্সপার্ট ও কর্মকর্তা) প্রয়োজন, তা এখনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এবং পদ সৃষ্টি বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণেই পুরো প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বিশাল এই ৫ একরের ক্যাম্পাস ও কোটি টাকার সরঞ্জাম দেখাশোনার ভার মাত্র দুই কর্মচারীর ওপর, যা নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দিক থেকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস জানান,প্রকল্পটি চালু হলে স্থানীয় তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার এক বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। কেন্দ্রটি দ্রুত সচল করার বিষয়ে আমরা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছি।