পশ্চিম তীরের হেবরন ধ্বংসের হুমকি নেতানিয়াহুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১:০৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিম তীরের হেবরন ধ্বংসের হুমকি নেতানিয়াহুর

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের একটি এলাকা ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চেকপোস্টে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজকে সঙ্গে নিয়ে হেবরন সফরে গিয়ে তিনি এ হুমকি দেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ওই হামলায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকা ধ্বংস করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সেখানকার পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শরণার্থী শিবিরগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী যে ধরনের কঠোর সামরিক অভিযান চালিয়েছে, হেবরনেও একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করা হতে পারে। তার ভাষ্য, এসব শিবির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব অভিযানে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ইসরায়েলের দাবি, ওই এলাকাগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে।

হেবরনে সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারীরা যে এলাকা থেকে এসেছে, সেখানে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, অস্ত্র জব্দ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো শনাক্ত করে ধ্বংস করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পশ্চিম তীরের বিভিন্ন সড়কের পাশে অনুমতি ছাড়া নির্মিত বাড়িঘর সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। নেতানিয়াহুর দাবি, এসব স্থাপনা ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় অভিযানগুলোর একটি। তবে অভিযান শুরুর সময় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, সাধারণ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তাদের ইসরায়েলি জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য আদর্শ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

আরও পড়ুন