এশিয়ার জলসীমায় চীনের ৪০০ যুদ্ধজাহাজ, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০০:০২, ৮ নভেম্বর ২০২৬

এশিয়ার জলসীমায় চীনের ৪০০ যুদ্ধজাহাজ, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের নৌবাহিনীর শক্তি ও উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির যুদ্ধজাহাজ এখন আর শুধু নিজস্ব উপকূলীয় জলসীমায় সীমাবদ্ধ নেই। দক্ষিণ চীন সাগর, জাপান ও তাইওয়ানের আশপাশসহ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি চীনা যুদ্ধজাহাজ চলাচল করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের নৌবাহিনীর এই সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জাহাজের সংখ্যার হিসাবে চীন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে দ্রুতগতিতে নৌবহর সম্প্রসারণের কারণে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা ওয়াশিংটনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পর্যালোচনা করা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের নৌবাহিনীতে বর্তমানে ৪০০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন রয়েছে। সংখ্যার বিচারে মার্কিন নৌবহরের তুলনায় এটি প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি।

বর্তমানে চীনের হাতে রয়েছে তিনটি বিমানবাহী রণতরি। এ ছাড়া চতুর্থ একটি রণতরি নির্মাণাধীন। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন রণতরিটি পারমাণবিক শক্তিচালিত হতে পারে। শান্তিকালীন সময়ে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় নৌবাহিনী সম্প্রসারণ হিসেবে চীনের এই উদ্যোগকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এশিয়ার বিভিন্ন জলসীমায় চীনের উপস্থিতি

চীনের নৌ তৎপরতা এখন এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ানের আশপাশ, ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চল এবং জাপানের দক্ষিণ উপকূলে নিয়মিত চলাচল করছে দেশটির যুদ্ধজাহাজ। পাশাপাশি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে বেইজিং। এডেন উপসাগরেও নিয়মিত নৌবহর মোতায়েন করছে চীন।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যেকোনো সময়ে তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমায় চীনের প্রায় ছয়টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করে। তবে সামরিক মহড়ার সময় জাহাজের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি তাইওয়ানসংলগ্ন এলাকার তুলনায় প্রায় তিন গুণ। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপ ও জলসীমার মালিকানা নিয়ে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে বেইজিংয়ের।

তবে চীনের নৌবাহিনী সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য শুধু যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বাড়ানো নয়। নিজেদের উপকূলীয় জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিরোধপূর্ণ অঞ্চল নিয়ে নিজেদের দাবিকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ সীমিত রাখাও দেশটির কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ।

চীনের ক্রমবর্ধমান নৌশক্তি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

সূত্র: এনডিটিভি ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

আরও পড়ুন