প্রকাশ: ১২:৫৫, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন–মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যৌথভাবে প্রকাশ করা হয় ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)’ প্রতিবেদনটি। এতে বলা হয়, বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় শেষ আট মাসে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়বে। তবে সার্বিকভাবে গত বছরের তুলনায় এ বছর সংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান বলেন, “আইপিসি প্রতিবেদনের সঙ্গে আমরা দ্বিমত করছি না। সমস্যা আছে, তবে সরকার নানা কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা কমাতে কাজ করছে।” তিনি জানান, মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্লেষিত জেলাগুলোর ১৭ শতাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকতে পারে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু বিপর্যয়, তহবিলের অভাব, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও খাদ্যবৈচিত্র্যের ঘাটতি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৩৬ জেলার মধ্যে ১৩টি জেলায় খাদ্যসংকট বা ধাপ–৩ পর্যায়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব জেলা হলো বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বান্দরবান, রাঙামাটি, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়তে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলার মানুষ, বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনগণ। ওই জেলার প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটের মুখে পড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার জরুরি অবস্থা দেখা দিতে পারে। সেখানে প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা খাদ্যসংকট ও চরম দুরবস্থার মুখে পড়তে পারেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ শতাংশ এই সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত খাদ্যসংকটে থাকা নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়ে ধাপ–২ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। অপরদিকে আগে তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকা বাগেরহাট জেলার খাদ্যনিরাপত্তা অবনতি হয়ে এবার ধাপ–৩ পর্যায়ে নেমে এসেছে।
আইপিসি প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে এসব জেলায় খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া চলমান অর্থনৈতিক সংকট, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি খাদ্যসংকট আরও গভীর করছে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ডিসেম্বরের মধ্যে উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় খাদ্যসংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।