নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
প্রকাশ: ২০:২০, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৪, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
বৈঠকে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। দুই দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম।
শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আড়াই হাজারের বেশি নেপালি শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করছেন। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
নেপালে সম্প্রতি সংঘটিত ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোর পুনর্নির্মাণে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, নেপাল বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশ সবসময় নেপালের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এককভাবে কথা না বলে সম্মিলিতভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূভাবে অর্জন করা সম্ভব হবে। এ জন্য সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে নেপালের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়লে প্রতিবেশী দেশগুলো তুলনামূলক সুবিধা পাবে, পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত হবে। এতে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বাড়বে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নিজেদের দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে।