ক্ষুধা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অগ্রগতি, অবনতি পাকিস্তানের পরিস্থিতির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯:৫৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ক্ষুধা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অগ্রগতি, অবনতি পাকিস্তানের পরিস্থিতির

দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবেলায় বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে, যার বিপরীতে পাকিস্তানের পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটেছে। নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মেয়েদের শিক্ষার প্রসারকে বাংলাদেশের এই সাফল্যের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, লাগামহীন খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র শিশু অপুষ্টি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং জলবায়ুজনিত বিপর্যয়ের কারণে পাকিস্তানে ক্ষুধার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক (জিএইচআই) শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০০০ সালের পর থেকে ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল ধারাবাহিকভাবে ক্ষুধা সূচকে উন্নতি করলেও পাকিস্তানের অগ্রগতির ধারা থেমে গেছে এবং পরিস্থিতি আবার অবনতির দিকে যাচ্ছে।

জার্মানির বনভিত্তিক ক্ষুধা মোকাবেলায় কাজ করা সংস্থা ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক সহায়তা সংস্থা হেলভেটাস এবং জার্মানির রুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষুধা সূচকের স্কোর ১৯ দশমিক ২, যা মডারেট বা সহনীয় পর্যায়ের স্কোর। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। এই সূচকে ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, যা সিরিয়াস বা গুরুতর বলে বিবেচিত।

অপরদিকে, পাকিস্তানের ক্ষুধা সূচকের স্কোর ২৫ দশমিক ৫, যা ২০১৮ সালে ছিল ২৪ দশমিক ০।

সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১২২টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১০৬ তম। দেশটির চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া দেশের সংখ্যা প্রায় এক ডজন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, সিয়েরা লিওন ও সিরিয়া।

বাংলাদেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক অবকাঠামো ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক আর্থিক বিশ্লেষক জাভেদ হাসান সংবাদমাধ্যম ‘নিক্কেই এশিয়া’কে জানান, তৈরি পোশাক খাতে লাখ লাখ নারীর কর্মসংস্থান এবং মাঠপর্যায়ে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস সেবা মানুষের ঘরে ঘরে পুষ্টি সেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মেয়েদের শিক্ষার সম্প্রসারণ বাংলাদেশের এই অর্জনকে সুদৃঢ় করেছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক স্বাধীন অর্থনীতিবিদ নিয়াজ মুর্তাজাও জানান, নারীদের ধারাবাহিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণই বাংলাদেশকে প্রতিবেশীদের চেয়ে ক্ষুধা মোকাবিলায় বহুদূর এগিয়ে নিয়েছে।

চার সূচকে নির্ধারিত হয় বৈশ্বিক ক্ষুধার মাত্রা

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক চারটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। এগুলো হলো অপুষ্টি বা পর্যাপ্ত খাদ্য না পাওয়া, শিশুমৃত্যু, শিশুদের বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় শরীরের ওজন কম হওয়া। সূচকটির মোট গুরুত্বের ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ করে নির্ধারিত হয়েছে অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর জন্য। বাকি ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিশুদের বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হওয়ার সূচককে।

স্কোর নির্ধারণ করা হয় শূন্য থেকে ১০০-এর মধ্যে। স্কোর ১০-এর নিচে হলে ক্ষুধার মাত্রা কম, ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯ হলে মাঝারি, ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯ হলে গুরুতর, ৩৫ থেকে ৪৯ দশমিক ৯ হলে আশঙ্কাজনক এবং ৫০ বা তার বেশি হলে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন