জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১:১০, ২২ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সৌদি আরবে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে আঘাতের ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ১৮ মে’র পর এই প্রথম তেলের দাম এ পর্যায়ে পৌঁছাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হন। এ ছাড়া সৌদি আরবের একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত চারটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। ইরানি বাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে তিনটি জাহাজ মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এসব ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরান বলেছে, উসকানি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

নিরাপত্তা উদ্বেগে কর্মী সরাচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান

অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সৌদি আরবে কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকে কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মিশন থেকেও কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো ধাহরানে তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের আশঙ্কা তেলের বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর আগে ওই অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত এপ্রিলে দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে পৌঁছেছিল। পরে মে মাসের শেষ দিকে দাম ১০০ ডলারের নিচে নামে এবং জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশায় ব্যারেলপ্রতি ৭১ ডলারে নেমে আসে। তবে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

তবে জ্বালানিবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধের আগের পর্যায় ছাড়িয়েছে। স্থলপথে পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ব শেয়ারবাজারেও পতন

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও ঋণের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে।

ইউরোপের স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচক ১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এশিয়ায় জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশ কমেছে।

জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের চাপ পড়েছে বিমান পরিবহন খাতেও। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনসের শেয়ার প্রাক্-বাজার লেনদেনে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জ্বালানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর লোকসানের মুখে পড়তে পারে তারা। এর আগে মুনাফা অর্জনের যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা থেকেও সরে এসেছে কোম্পানিটি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের প্রতিবেদন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন