নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:৫৮, ৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:০২, ৪ নভেম্বর ২০২৬
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যান দাই হেজেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহা. আবদুস সালাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের বৃহৎ স্থানীয় সরকার কাঠামোর চিত্র তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পাঁচ শতাধিক উপজেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৪ হাজার ৯০০ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।
তিনি বলেন, বড় উন্নয়ন প্রকল্পে পিপিপি মডেলে, চীনা সরকারের সরাসরি অর্থায়নে কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ এবং সড়ক ও সেতু নির্মাণে চীন সরকারের অব্যাহত অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গ্রামকে শহরে রূপান্তরের রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং সার্বিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে সিআরসিসির আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশাল অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ওয়াসার অধীনে সুপেয় পানি সরবরাহ, আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ এবং সেতু-কালভার্ট নির্মাণে সিআরসিসি এগিয়ে এলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
যেকোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সহজতর করতে বর্তমান সরকার পূর্ণ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সভায় সিআরসিসির চেয়ারম্যান জানান, বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক সিআরসিসি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক ঠিকাদারি খাতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২৪টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এবং নদীর তীর পুনরুদ্ধার ও অবকাঠামো নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে সিআরসিসি।
দাই হেজেন আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রামীণ এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহে নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী সিআরসিসি। বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের সুষম উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।