নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১:০৫, ৪ নভেম্বর ২০২৬
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রকৃত শ্রমিক আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি নাকি সহিংসতা—তা নতুন করে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, পোশাকশ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে দেরি হওয়ায় বোর্ড গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। নাম পাওয়ার পরদিনই বোর্ড গঠন করা হয়। বুধবার বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার শ্রমিক ও শিল্প—উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করে রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে কাজ করছে।
চলমান সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বেশি থাকতে পারে। কিছু ব্যক্তি শ্রমিক আন্দোলনকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন—এমন কয়েকজন শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও সামনে এসেছে। তাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ন্যায্য দাবির বিষয়ে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে। মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সরকার বৈঠক করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও বর্তমান সহিংসতাকে শ্রমিকদের স্বাভাবিক আন্দোলন হিসেবে দেখছেন না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংযম দেখাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামলায় বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও শ্রমিকদের ওপর যেন অপ্রয়োজনীয় বল প্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের কারণে কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয়, সেটি সবার বিবেচনায় রাখা উচিত। মজুরি বোর্ড ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে এবং কাজ শুরু করেছে। তাই এখন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি ঘোষণা করতে বোর্ডকে বলা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই মজুরি ঘোষণা করা সম্ভব হলে তা ইতিবাচক হবে।