নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:৪৭, ২৩ মার্চ ২০২৬
নিহত গৃহবধূর নাম চায়না খাতুন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী। সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা-এর গ্রুপ এবং ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামানিকের গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। রোববার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয় এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
সোমবার সকালে ইসলাম প্রামানিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। তখন রাজা গ্রুপের লোকজন হামলা চালিয়ে গুলি বর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইসলাম প্রামানিক দাবি করেন, “রাজার গ্রুপের লোকজন রোববার রাতে আমার ভাগ্নেকে মারধর করে। আমি তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু উল্টো আমার ওপর হামলা করা হয়। সকালে আমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তারা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়, এতে চায়না খাতুন মারা যান এবং আরও ৮–১০ জন আহত হন।”
অভিযুক্ত রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। গুলিবর্ষণ বা চায়না খাতুনের মৃত্যু সম্পর্কে আমি জানি না। আমার নামকে ফাঁস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, দুই পক্ষই বিএনপি সমর্থক। পূর্বপাড়া এবং পশ্চিমপাড়া এলাকায় রাতের ঝামলার পর সকালে প্রতিটি পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা বসায় এবং বাজারে যাওয়া অন্যপক্ষের লোকদের বাধা দেয়। পরে পূর্বপাড়ার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। হামলার মূল কারণ ও বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মূলত ঈদ পরবর্তী চাঁদার টাকা ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত।