নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ: ১২:৩৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনা বিএনপির চাঁদাবাজির ধারাবাহিকতার অংশ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ নানা কারণে জনগণ দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারের আমলে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভেরিফিকেশন ও ভাইবার নামে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় নিয়ে অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকায় অনেক চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও ছিল।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভাইবার নম্বর ৪০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিভিন্ন সংসদ সদস্যও প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন যে লিখিত পরীক্ষায় পাস করলেই হবে, ভাইবার সময় তাদের কাছে প্রবেশপত্র নিয়ে গেলেই চাকরি হয়ে যাবে।
এ প্রসঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তার ভাষ্য, ওই প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সব চাকরি দলের লোকেরা পাবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ দেখা গেছে প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষায়। সেখানে প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাদ পড়াদের মধ্যে আন্দোলনের অনেক সহযোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠীও রয়েছেন।
নাহিদ বলেন, গতকাল শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, বাদ পড়াদের পর্যায়ক্রমে আবার নেওয়া হবে বা সুযোগ দেওয়া হবে। আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে শিক্ষামন্ত্রী এমন কথা বলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের কাউকেই বাদ দেওয়া যাবে না। কোনো চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় যোগ্য হলে এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ না থাকলে ভেরিফিকেশনের নামে তাকে হয়রানি বা নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সকল চাকরিপ্রার্থীর পাশে এনসিপি আছে। যদি একজন চাকরিপ্রার্থীকে অন্যায়ভাবে চাকরির প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা তার জন্য লড়ব, কথা বলব, প্রয়োজনে আন্দোলনে মাঠে থাকব।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন তাকে অন্যায়ভাবে চাকরির প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং এর পক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে এনসিপির কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। দল তাদের পাশে থাকবে।