আনোয়ারুল ইসলাম রনি, রংপুর
প্রকাশ: ২২:৩৯, ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী থানায় গেলে তাদের সঙ্গেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, চুরির একটি অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন এসআই নিহার রঞ্জন। এ সময় তাকে গালাগাল ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে থানায় যান রেজওয়ান রনি।
রেজওয়ান রনি জানান, প্রথমে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর এসআই তাকে বসতে বলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করলে তার পরিচয়পত্র দেখতে চান নিহার রঞ্জন। এ সময় তিনি ভিজিটিং কার্ড দিলেও সেটি না দেখে গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেজওয়ান রনির দাবি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে চেনেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন জানালে এসআই নিহার রঞ্জন বলেন, ‘ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নেই আমার।’ এরপর উচ্চস্বরে চিৎকার করতে করতে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে সহকর্মীদের বিষয়টি জানালে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী থানায় যান। তাদের সঙ্গেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা চিৎকার-চেঁচামেচি করে কক্ষ থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকেরা।
ঘটনাস্থলে থাকা দৈনিক খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকার বলেন, থানায় আনা এক ব্যক্তির সঙ্গে এসআই নিহার রঞ্জন অকথ্য ভাষায় কথা বলছিলেন। বিষয়টি জানতে গেলে রেজওয়ান রনি পরিচয়ের জন্য ভিজিটিং কার্ড দিলেও তাকে গলায় পরিচয়পত্র ঝোলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয় বলে তিনি জানান।
আরএনবি নিউজের হেড অব ডিজিটাল একেএম সুমন মিয়াও ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেন। তার দাবি, পরিচয়পত্র ছাড়া সাংবাদিকদের থানার ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না জানিয়ে নিহার রঞ্জন তার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম নাজমুল কাদের জানান, সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, থানা সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এখানে কাউকে গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হবে না।