চিকিৎসার অভাবে গ্যাংগ্রিনে পচছে পা, অসহায় মজলুর বাঁচার আকুতি

‎ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ

প্রকাশ: ১৮:২৬, ২৬ আগস্ট ২০২৬

চিকিৎসার অভাবে গ্যাংগ্রিনে পচছে পা, অসহায় মজলুর বাঁচার আকুতি

‎"রাইত অইলে আর সহ্য করতে পারি না। যন্ত্রণায় ছটফট করি। মরতে ভয় পাই না, ভয় পাই মোর অসুস্থতায় পরিবারটা কিনা - না খাইয়া মরে।" — কান্নাভেজা কণ্ঠে বলছিলেন মজলু মিয়া।
‎
‎শারীরিক যন্ত্রণা আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এভাবেই দিনগুলো কাটছে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৯নং সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের বালিহারী গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ মজলু মিয়ার। একসময় যে পা দুটো ভর করে সংসারের চাকা ঘুরিয়েছেন, আজ সেই পায়ের পচনই পঙ্গু করে দিয়েছে তাঁকে । দীর্ঘদিনের অবহেলা আর অর্থাভাবে চিকিৎসা না পেয়ে আজ তিনি শয্যাশায়ী। তীব্র যন্ত্রণায় কাটে তাঁর দিন-রাত।
‎
‎​প্রায় দুই বছর আগে পায়ে সামান্য ক্ষত নিয়ে রোগের সূচনা। দারিদ্র্যের কারণে সঠিক চিকিৎসা না করিয়ে স্থানীয় কবিরাজি ও অসংগঠিত চিকিৎসায় ভরসা করেছিলেন। কিন্তু ক্ষত সারার বদলে ক্রমান্বয়ে তা পচনে রূপ নেয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি গ্যাংগ্রিন (Gangrene) রোগে আক্রান্ত। পচন ছড়ানো অংশ কেটে ফেলা ছাড়া রোগীকে বাঁচানো কঠিন, কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন মোটা অঙ্কের টাকা - যা এই নিঃস্ব পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।
‎
‎বুধবার (২৬ আগষ্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙাচোরা জরাজীর্ণ একটি ঘরের বারান্দায় শুয়ে আছেন মজনু মিয়া। রুগ্ন দেহ আর পায়ে ক্ষত। সাহায্য ছাড়া নিজে একা চলাফেরা করতে পারছেন না। স্ত্রী, একপুত্র ও পুত্রবধূ নিয়ে চার সদস্যের পরিবার। স্ত্রীর সাহায্য নিয়ে কোনমতে উঠে বসে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, "মুই (আমি) খুব অসহায় স্যার। কয়েকমাস হইতে বিছানায় ছটফট করি। মোরে (আমাকে) আপনারা সাহায্য করেন, নইলে মোর পা থাকপে না। মুই বাঁচমু না স্যার। "
‎​
‎মজলু মিয়াই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দিনমজুরি করে চলত চার সদস্যের সংসার। কিন্তু অসুস্থতার পর থেকে ঘরের জমা-পুঁজি সব শেষ। এখন দুবেলা ভাত জোটাই যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে দামি ওষুধ আর অস্ত্রোপচারের খরচ চালানো আকাশকুসুম কল্পনা।
‎
‎​বর্তমানে ব্যথানাশক কিছু ওষুধ খেয়ে দিন পার করছেন মজলু মিয়া। কিন্তু পচন দিন দিন ওপরের দিকে ছড়াচ্ছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার করা না গেলে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।
‎
‎মজলু মিয়ার প্রতিবেশী খোকন বলেন, অসহায় মজলু মিয়ার জীবন কাটে অতি কষ্টে। সরকারি কোন সাহায্যও পায় না। তিনি সরকারি কিংবা বেসরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মজলু মিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।  
‎​
‎​একটু সহানুভূতি আর সমাজের বিত্তবান ও সরকারি সহায়তাই পারে মজলু মিয়াকে এই যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে মুক্তি দিতে। একটি সুস্থ জীবনের প্রত্যাশায় সহৃদয় মানুষের সাহায্যের পথ চেয়ে প্রহর গুনছেন এই অসহায় মানুষটি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন