জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশ: ১৮:০০, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় দেড় হাজার বই রয়েছে পাঠাগারটিতে। ২০১৭ সালে স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর দান করা তিন শতক জমিতে সেতুবন্ধন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করে। ছোট্ট টিনশেড ঘরে যাত্রা শুরু করা পাঠাগারটি বর্তমানে গ্রামটির জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
একসময় এলাকার মানুষের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সুযোগ ছিল সীমিত। তবে সেতুবন্ধন পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পর সেই চিত্র বদলেছে। পাঠকের আগ্রহ ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হয়েছে পাঠাগারটির সংগ্রহ। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত এখানে বই পড়তে আসে।
সারি সারি বইয়ের তাক, চেয়ার-টেবিল ও শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠাগারটি হয়ে উঠেছে বাড়ির বাইরের আরেকটি শিক্ষাঙ্গন। বই পড়ার পাশাপাশি পাঠকেরা নিয়মিত পত্রিকা পড়ে দেশ-বিদেশের খবরও জানতে পারছেন।
কলেজ শিক্ষার্থী সুজন ইসলাম বলেন, “এখানে এসে গল্প, ছড়া ও বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ি। পত্রিকা পড়ে দেশ-বিদেশের খবরও জানতে পারি। এই পাঠাগার আমাদের অনেক উপকার করছে।”
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, “স্কুল ছুটির পর প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি। ছোটগল্পের বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে সব ধরনের বই রয়েছে। অবসর সময় এখন বই পড়েই কাটাই। এতে নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।”
সেতুবন্ধন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন বলেন, “গ্রামাঞ্চলে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, বইয়ের সংখ্যা আরও বাড়ুক এবং পাঠাগারটি একটি আদর্শ লাইব্রেরিতে পরিণত হোক। এ জন্য সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, গ্রামের মানুষ যেন জ্ঞান ও তথ্যের সুযোগ থেকে পিছিয়ে না থাকে এবং নতুন প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়—এটাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, “সেতুবন্ধনের কার্যক্রম বরাবরই প্রশংসনীয়। সেতুবন্ধন পাঠাগার এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”