নিখোঁজের ২৬ দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিলল সাঈদের সন্ধান

ইয়াছিন মাহমুদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১২:০৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজের ২৬ দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিলল সাঈদের সন্ধান

নিখোঁজের দীর্ঘ ২৬ দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খোঁজ মিলেছে মানসিক রোগী মো. শাহিদুর রহমান ওরফে সাঈদের (২২)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার-(২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর এর উদ্যোগে সাঈদকে তাঁর বড় চাচা আমজাদ মিয়া ও ফুফাতো ভাই মো. শান্তর কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর শেষে বাতিঘরের পক্ষ থেকে সাঈদের চিকিৎসা, ওষুধ ও খাবারের ব্যবস্থা করে তাঁকে ট্রেনে করে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।

সাঈদ রংপুর জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বোচাদহ গ্রামের মো. মনিরুল ইসলাম ও সালমা বেগমের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাঈদ ও তাঁর বাবা দুজনই মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রাণ কোম্পানির একটি ভবনের পাইলিং কাজ করতেন সাঈদ। গত-৩ সেপ্টেম্বর রাতে ত্রিশালে মামা আক্তারুলের বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন।

পরবর্তীতে গত-২৭ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত ও আহত অবস্থায় সাঈদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ভর্তির টিকিটে 'সাইফ' নাম এবং পিতা-মাতার স্থানে 'কেউ নাই' লেখা থাকলেও যুবকটি নিজেকে 'সাঈদ' বলে দাবি করছিলেন। মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও শরীরে আঘাত থাকায় হাসপাতালের নার্স এবং 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর' এর তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়।

পরবর্তীতে বাতিঘরের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সাঈদের ছবি দেখে স্বজনেরা তাঁকে শনাক্ত করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মো. লিটন মিয়া সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের নার্সিং ইনচার্জ পূজা রায় জানান, মানসিক অসুস্থতার কারণে সাঈদের পরিচয় উদ্ধার কঠিন ছিল। তবে হাসপাতালের কর্মী ও বাতিঘরের সহযোগিতায় চিকিৎসা শেষে পরিবারের সন্ধান মেলাটা স্বস্তির।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মোঃ আজহার উদ্দিন বলেন অজ্ঞাত ও অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। সাঈদকে নিরাপদে তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও বাতিঘরের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় সব আইনি ও মানবিক প্রক্রিয়া শেষেই যুবককে স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন