রাউজানে পুলিশের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

 নাজিম উদ্দীন ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ১৭:০৯, ১ অক্টোবর ২০২৬

রাউজানে পুলিশের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের সময় গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তির হেফাজত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান থানাধীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে রাউজান থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২) ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২)-এর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাইয়ের পর চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন (৩৭), মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মো. বাঁচা (৪৫)সহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে পুলিশের দাবি।

এ সময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিনিময়ের ঘটনায় এসআই মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. খোরশেদ আলম, এসআই মো. বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই মো. রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার দিলদারের হেফাজত ও তার দেখানো মতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে—একটি ডিবিবিএল দোনলা বন্দুক, একটি এসবিবিএল একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি এবং দুটি গুলি রাখার প্রসেস।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধীচক্রের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

রাউজান থানা পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অস্ত্রধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন