আবু হাসান আকাশ, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট):
প্রকাশ: ২০:০০, ৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:০৪, ৩ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্ণা অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারে ‘মেসার্স জান্নাত আয়রন অ্যান্ড মেটাল’-এর সৌজন্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫০ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে নগদ অর্থ ও শিক্ষা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান এসব কথা বলেন।
মেসার্স জান্নাত আয়রন অ্যান্ড মেটালের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর আলম বাবুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাতীবান্ধা এসএস সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের, উপজেলা বিএনপি নেতা এম সাহেদুজ্জামান সরকার কোয়েল, শাহ গরীবুল্লাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তবিবার রহমান, লোকমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বাবুল, মেসার্স জান্নাত আয়রন অ্যান্ড মেটালের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আমিনুর রহমান ও হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রুবেল ইসলামসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে ৫০ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে নগদ অর্থ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বলেন, “এখন থেকে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রত্যেকটি স্কুল চারতলার পরিবর্তে পাঁচতলা ভবন হবে। সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য অবকাঠামো, সুন্দর পরিবেশ ও শিক্ষকদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করছে। প্রত্যেক মানুষ ট্যাক্স দেয়, সেই ট্যাক্সের টাকায় দেশ ও সরকার পরিচালিত হয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে অনেক দুর্বল। অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে সন্তানদের পেছনে অর্থ ব্যয় করে স্কুল-কলেজে পাঠাচ্ছেন। মানুষ হয়ে তাদের এই ঋণ শোধ করতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল করে একটি সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবে না; সমাজ, দেশ ও পরিবারের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “একজন সার্টিফিকেটধারী মানুষ হলেই হবে না, মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা রাখতে হবে। ক্যারিয়ার গড়ে দেশ, সমাজ ও পরিবারের জন্য কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক জাহাঙ্গীর আলম বাবুর উদ্যোগের প্রশংসা করে সংসদ সদস্য বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকের এ মানসিকতা ও প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর কাজে আল্লাহ যেন আরও বরকত দেন এ কামনা করেন।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, “এখন আমি ঢাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েছি। হাতীবান্ধার মানুষের পাশে থেকে মানবিক কাজ করে যেতে চাই। এবার প্রথমবারের মতো ৫০ জন মেধাবী ও হতদরিদ্র শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছি, যা ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মসজিদ-মাদ্রাসায় সহযোগিতা, হতদরিদ্রদের বাড়ি নির্মাণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেওয়া ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজ করে আসছি।আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে পারি।”