বানারীপাড়ায় বিএনপির মাঠ চাঙ্গা, একক প্রার্থী নিয়ে ফুরফুরে জামায়াত

হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া (বরিশাল)

প্রকাশ: ১৭:০৩, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বানারীপাড়ায় বিএনপির মাঠ চাঙ্গা, একক প্রার্থী নিয়ে ফুরফুরে জামায়াত

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে মাঠে সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে নির্বাচনী মাঠে দুই দলের কৌশল ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

জামায়াত ইতোমধ্যে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে সাংগঠনিকভাবে মাঠে নেমেছে। বিপরীতে বিএনপির প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই একাধিক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। ফলে জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনের দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও প্রার্থী বাছাই ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে বিএনপির সামনে তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশারকান্দি, ইলুহার, উদয়কাঠী, বাইশারী, সৈয়দকাঠী, চাখার, সলিয়াবাকপুর ও বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা বেশ দৃশ্যমান। বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় ও প্রচার-প্রচারণা চলছে।

তবে একই ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকায় তৈরি হচ্ছে প্রতিযোগিতা। কেউ কেউ অনুসারীদের নিয়ে পৃথকভাবে গণসংযোগ করছেন, টানানো হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন। এতে একদিকে যেমন দলের সাংগঠনিক শক্তি দৃশ্যমান হচ্ছে, অন্যদিকে প্রার্থী বাছাইয়ের পর ঐক্য ধরে রাখা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির বর্তমান জনসমর্থন নির্বাচনী মাঠে বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সমঝোতা না হলে সেই সুবিধাই পরবর্তীতে দলের জন্য চাপের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে একাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাকে নিজেদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। ৮টি ইউনিয়নে একক প্রার্থী নির্ধারণ করে দলটির নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে নিয়মিত গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থী নিয়ে দৃশ্যমান বিরোধ না থাকায় তুলনামূলকভাবে গোছানো অবস্থানে রয়েছে দলটি।

স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখবে। বিএনপির একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ পর্যন্ত কীভাবে সমাধান করা হয়, তার ওপরও নির্বাচনী ফলাফলের বড় একটি সমীকরণ নির্ভর করতে পারে।

ইতোমধ্যে বিএনপির কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী জানিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন—এমন ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেই প্রার্থী বাছাই করতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতার ভিত্তিতে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মৃধা বলেন, “বাংলাদেশে সর্বত্র নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান করেছেন। সে হিসেবে বানারীপাড়া উপজেলা বাংলাদেশের বাইরে নয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি জনমত জরিপ করে ত্যাগী, হামলা-মামলার শিকার ও জনপ্রিয় নেতা বা কর্মীকেই মনোনয়ন দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “দলকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করতে হবে। কোনো ইউনিয়নে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এবং বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সব মিলিয়ে বানারীপাড়ার ইউনিয়ন নির্বাচনকে ঘিরে এখন সামনে এসেছে দুটি ভিন্ন সমীকরণ—জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপির মাঠ চাঙ্গা, আর প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার দিক থেকে জামায়াত তুলনামূলকভাবে গোছানো। শেষ পর্যন্ত কে কতটা ঐক্য ধরে রাখতে পারে এবং ভোটারদের আস্থা নিজেদের পক্ষে নিতে পারে—নির্বাচনের ফলাফলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন