রাঙ্গাবালীতে ছাত্রদল সভাপতি সোহাগের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

মুহাম্মাদ এমাদুল ইসলাম, পটুয়াখালী

প্রকাশ: ১৫:৩৫, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাঙ্গাবালীতে ছাত্রদল সভাপতি সোহাগের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহাগ হাওলাদারের বিরুদ্ধে নাঈম নামের এক তরুণকে তুলে নিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং রাতভর মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি, ৪ লাখ টাকা দেওয়ার পরও বাকি ১ লাখ টাকার জন্য নাঈমকে রাতভর নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর তারা চরম ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এমনকি নাঈযকে নির্যাতন করা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও সোহাগ হাওলাদারের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের। তাদের ভাষ্য, ভয়ভীতি, হয়রানি ও হুমকির কারণে নাঈমকে অনেকটা গৃহবন্দী অবস্থায় থাকতে হয়েছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাও নিতে পারেননি তিনি।

পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে নাঈম পটুয়াখালী ও গলাচিপায় গিয়ে আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নাঈমকে পটুয়াখালীতে সিয়াম নামে এক তরুণকে একটি মেয়েকে নিয়ে আটক করে মারধরের অভিযোগের সঙ্গে জড়িত করা হয়। ওই অভিযোগের পরই তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি পরিবারের।

তবে নাঈমের পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে ভয় ও আতঙ্কের কারণে তারা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও সাহস পাননি। এখন তারা নিজেদের এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছেন।

নাঈমের পরিবারের একজন সদস্য বলেন, “আমরা আমাদের নিরাপত্তা চাই, আমাদের সন্তানের নিরাপত্তা চাই। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে আমরা ন্যায়বিচার চাই।

ভুক্তভোগী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় সিয়ামকে এক নম্বর আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন—সিয়াম, পিতা ইলিয়াস; হিমেল, পিতা বেলায়েত ফকির; ইউসুফ মল্লিক, পিতা গোলাম মোস্তফা; ফরিদ তালুকদার, পিতা আলতাফ; আমিনুর, পিতা ধানু মোহাম্মদ; রনি দালাল এবং জাহিদ, পিতা জহির চৌকিদার।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, যাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, সেই সোহাগ হাওলাদারের নাম মামলায় নেওয়া হয়নি।

সাংবাদিকদের নেওয়া বক্তব্য প্রকাশ না হওয়ার অভিযোগ

পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের ভিডিও বক্তব্য ধারণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেসব বক্তব্য বা প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি বলে দাবি পরিবারের।

এমন গুরুতর অভিযোগের পরও ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রত্যাশিতভাবে তথ্য প্রকাশ না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগের বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহাগকে কল দিলে তিনি জানান এগুলো পোলাপানের মারামারি আমি রাজনীতিবিদ তাই সমাধান করে দিছি কিন্তু টাকা পয়সার কোন লেনদেন বা এরকম কিছু হয়নি এগুলো সব মিথ্যে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন