নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর:
প্রকাশ: ১৯:২৬, ১২ অক্টোবর ২০২৬
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কাজী জাহিদুল ইসলাম অভি নামে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও জাতীয় পরিচয়সংক্রান্ত আইনে মামলা হয়েছে। তবে মামলাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে অভির অভিযোগ, এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় বিরোধের জেরে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, মামলার বাদী বলেছেন, আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে এবং তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেন অভি। তিনি নিজেকে তেজগাঁও থানা যুবদলের নেতা ও অভি মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোশারফ হোসেনের ছেলে নাসির উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে পিরোজপুরের দায়রা ও সিনিয়র জজ স্পেশাল আদালতে ফৌজদারি নালিশি মামলাটি করেন। মামলার নম্বর ০২/২০২৬।
মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ও ৫ ধারা, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩-এর ১৮ ও ২৩ ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(১) ও ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে অভি (৩০) ছাড়াও জাকির হোসেন মৃধা (৫৬), আলামিন (৪৫) ও মাসুম আকনকে (৫৫) আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভি দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় তাঁর পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় নাসির উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে অভি বলেন, এসব বিষয়ে তিনি জনগণের কাছে বিচার চান। ভবিষ্যতেও সাপলেজা ইউনিয়নের জাতি, দল ও ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে মামলার বাদী নাসির উদ্দিন আহমেদ মামলা করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তিনি বলেন, ‘সঠিক বিচার হবে বলে আশা করি। আপনাদের কাছে যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জাহিদুল ইসলাম অভি স্থানীয় যুবদলের কোনো কমিটিতে নেই। তবে তিনি ঢাকায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা তাঁর জানা নেই। রিয়াজুল ইসলাম জানান, অভি ‘কাজী একতা’ সংগঠনের মাধ্যমে এলাকার মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা করেন।
সাপলেজা ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, অভি আগে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি ঢাকায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন বলে তিনি জানেন।
মাহবুব আলমের দাবি, অভি ‘একতা’ সংগঠনের মাধ্যমে এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষকে সহায়তা করেন। এ কারণে এলাকার অনেকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছে এবং সেই বিরোধের জেরেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ঘটনা নির্ধারিত হবে।