চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:১৩, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ মার্কেটের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটি পরিদর্শনের পর ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও সংস্কার বা ভাঙার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অন্যদিকে, মার্কেটের দোকানগুলোর একাধিকবার হাতবদল, হস্তান্তর ও ভাড়া আদায় নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করছে উপজেলা প্রশাসন। তবে বাজেট সংকটের কারণে মার্কেটের সংস্কার কিংবা ভেঙে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিতে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ মার্কেটের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিষয়টি পরিদর্শন করেন চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ। পরিদর্শনের পর ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় পার হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় মার্কেটের নিরাপত্তা ও সংস্কারকাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মার্কেটটি মেরামত করা হবে, নাকি প্রয়োজন অনুযায়ী ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। তবে প্রয়োজনীয় বাজেটের সংস্থান না থাকায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হতে পারে। এ অবস্থায় ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মার্কেটের ভবনগত সমস্যার পাশাপাশি দোকানগুলোর লিজ ও হস্তান্তরসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু দোকান একাধিকবার হাতবদল হয়েছে এবং লিজের শর্ত অনুসরণ না করে অন্যের কাছে হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
দোকানগুলোর লিজসংক্রান্ত কাগজপত্র, প্রকৃত লিজগ্রহীতা, বর্তমান দখলদার এবং ভাড়া আদায়ের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি লিজের শর্ত ভঙ্গ, অনুমতি ছাড়া দোকান হস্তান্তর কিংবা ভাড়া দেওয়া এবং ভাড়া বকেয়া থাকার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ এবং লিজ বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন , উপজেলা পরিষদ মার্কেটের ফাটল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসন অবগত রয়েছে। মার্কেটটি মেরামত করা হবে, নাকি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
দোকান হস্তান্তর ও ভাড়া আদায়সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, মার্কেটের দোকানগুলোর লিজসংক্রান্ত কাগজপত্র, প্রকৃত লিজগ্রহীতা, বর্তমান দখলদার, দোকান হস্তান্তর এবং ভাড়া আদায়ের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। লিজের শর্ত ভঙ্গ করে কেউ দোকান হস্তান্তর বা ভাড়া দিয়ে থাকলে এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ফাটল ধরা ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেরি হলে দোকানদার, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ভবনটির প্রকৃত অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তির দোকান বরাদ্দ, লিজ, হস্তান্তর ও ভাড়া আদায়ের বিষয়গুলো স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং বকেয়া থাকলে তা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত মার্কেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোকানগুলোর লিজ ও হস্তান্তরসংক্রান্ত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে একদিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সরকারি সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে।