নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:১৩, ২১ অক্টোবর ২০২৬
আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ মিনিট পর জ্ঞান ফিরে এলে নিজেকে একটি চলন্ত মাইক্রোবাসের মধ্যে দেখতে পান তিনি। তাঁর হাত-পা ও চোখ বাঁধা ছিল। গাড়িটি যাচ্ছিল অজানা গন্তব্যের দিকে। মামুনের দাবি, মাইক্রোবাসে থাকা ব্যক্তিদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল ছিল। এরপর তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামুন রেজা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের আছাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুরের একটি কারখানায় দি ইবনে সিনা ন্যাচারাল মেডিসিন লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
বুধবার হায়দারপুর গ্রামে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মামুন জানান, গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে অফিসের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সফিপুর বাজার থেকে লেগুনায় উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু স্বাভাবিক সেই যাত্রা যে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে, তা তিনি ভাবতেও পারেননি।
মামুন বলেন, ‘লেগুনায় ওঠার কিছুক্ষণ পর আরও চারজন ওঠেন। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমার আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরে দেখি, আমি মাইক্রোবাসের ভেতরে। আমার হাত-পা ও চোখ বাঁধা।’
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক্রোবাসে থাকা ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা চাওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেন। তাঁদের নির্দেশ মেনে নিজের মুঠোফোন থেকে বাবা, চাচা, দুলাভাই ও বড় বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। প্রথমে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু তাঁরা টাকা দিতে সম্মত না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মামুন।
তিনি বলেন, ‘আমার হাঁটুতে ও গলায় আঘাত করেছে। মুখে থাপ্পড় মেরেছে। বুকে, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মেরেছে। এখনো খুব ব্যথা করছে।’
মামুনের অভিযোগ, তাঁকে কালো কাচযুক্ত একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে মির্জাপুরের একটি নির্জন সড়কে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে চলে যাওয়ার আগে দুর্বৃত্তরা তাঁকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তুই মায়ের কোলে ফিরে যা। তোর মতো অনেক মামুনকে আমরা মেরেছি।’
মামুন রেজা জানান, তাঁর কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা, আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মুঠোফোন এবং ইসলামী ব্যাংকের একটি কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বরও জেনে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামুনের বাবা আছাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে ফোন দিয়ে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চায়। তখন আমি বুঝতে পারিনি কী হয়েছে। কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর বুঝতে পারি, আমার ছেলে কোনো সমস্যায় পড়েছে।’
এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী বলেন, ঘটনাটি তাঁর থানার আওতাধীন এলাকার বাইরে হওয়ায় সরাসরি তদন্ত করা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হবে এবং আইনি পরামর্শের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।