মোঃ রোকন উদ্দিন, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১৯:২৮, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
নিহত তানিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের মেয়ে। তাঁর স্বামী নুর উদ্দিন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের মধ্যে চার-পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই যৌতুককে কেন্দ্র করে তাঁদের সংসারে অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন তানিয়ার স্বজনেরা।
তানিয়ার বাবা মোহাম্মদ কামালের অভিযোগ, ঈদ উপলক্ষে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন নতুন কাপড়চোপড় ও উপহার দাবি করেন। রমজান মাসে সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার দেওয়ার পরও সম্প্রতি আবারও কাপড়চোপড় ও যৌতুক দাবি করা হয়। দাবি পূরণ করতে না পারায় তাঁর মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
পটিয়া উপজেলা কৃষকদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। এমন মর্মান্তিক ঘটনা কেউ প্রত্যাশা করেননি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, তানিয়ার স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তানিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।