১৪ ডিসেম্বরের আগে উন্মুক্ত হচ্ছে রায়েরবাজার বধ্যভূমির স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০:২৭, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

১৪ ডিসেম্বরের আগে উন্মুক্ত হচ্ছে রায়েরবাজার বধ্যভূমির স্থাপনা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মিত নতুন স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বধ্যভূমি পরিদর্শন করে এ কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বধ্যভূমির সংরক্ষণ ও উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি নবনির্মিত স্থাপনাগুলোর ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস। এ ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ তুলে ধরা সবার দায়িত্ব। রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে যাঁরা শায়িত আছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ যেন যুগ যুগ ধরে মানুষ স্মরণ করে, সে লক্ষ্যেই স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বধ্যভূমিতে নির্মিত লাইব্রেরিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণার সুযোগ থাকবে। আর্ট গ্যালারিতে তুলে ধরা হবে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধ ও বীরত্বগাথা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে একটি প্রকল্পের আওতায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। ‘১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল, আর্ট গ্যালারি, প্রশাসনিক ও অফিস কক্ষ, জেনারেটর রুম, ১০টি দোকান এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা, ইন্টারকম ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। নবনির্মিত স্থাপনাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারির কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২৯ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা এবং স্থাপনাগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীরসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন